#★# অাদর্শ জীবনচরিত <-> সুশ্রুত ও চরক #★#
![]() |
| # মহাঋষি সুশ্রুত # |
অাধুনিক গবেষকদের মতে সুশ্রুত খ্রিস্টপূর্ব ৬০০ অব্দে বর্তমান ছিলেন। তিনি বর্তমান বারাণসী নগরে গঙ্গার তীরে বাস করতেন এবং চিকিৎসাবিদ্যা চর্চা করতেন। তিনি প্রধানত শল্যবিদ্যার চর্চা করতেন। এজন্য তাকে বলা হয় 'ভারতীয় শল্যবিদ্যার জনক'। তিনি তাঁর গ্রন্থে শল্যবিদ্যার ৩০০ প্রকার পদ্ধতি এবং ১২০ টি অস্ত্রের বর্ণনা দিয়েছেন। পাশ্চাত্যে এই অস্ত্রগুলোর অাধুনিকায়ন করা হয়েছে।
সুশ্রুতসংহিতা প্রধানত ৪ টি ভাগে বিভক্ত- (সূত্রস্থান, শারীরস্থান, চিকিৎসাস্থান এবং কল্পস্থান)। এতে অায়ুর্বেদের উৎপত্তি, শল্যতন্ত্র, রসায়নতন্ত্র, পীড়া, ঔষধ, অস্থি, চিকিৎসা, রোগের লক্ষণ, পথ্যাপথ্য, ইত্যাদি বিষয় বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে। অায়ুর্বেদমতে চিকিৎসা করতে হলে সুশ্রুতসংহিতায় বিশেষ জ্ঞান থাকতে হয়। বর্তমান কালেও চিকিৎসা জগতে এর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। তাই চিকিৎসাশাস্ত্রে ব্যুৎপত্তি লাভ করতে হলে সুশ্রুতসংহিতায় বিশেষ জ্ঞান লাভ করা প্রয়োজন। সুশ্রুতসংহিতা রচনা করে সুশ্রুত মানব জাতির বিশেষ মঙ্গল সাধন করেছেন।
![]() |
| # চরক # |
চরক মানুষের চিকিৎসা শুরু করেন। অল্পদিনের মধ্যেই তিনি একজন সুচিকিৎসক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন। তাঁর পূর্বে অাত্রেয়, অগ্নিবেশ প্রমুখ অারও চিকিৎসক ছিলেন। তাঁরা বৈদ্যক বা চিকিৎসা গ্রন্থ রচনা করেছিলেন। চরক সেসবের সস্কার ও সারাংশ গ্রহণ করে একখানা নতুন গ্রন্থ প্রণয়ন করেন। তার নাম 'চরকসংহিতা'। প্রাচীন ভারতীয় চিকিৎসাশাস্ত্রে এটি একখানা বিখ্যাত গ্রন্থ। গ্রন্থটি ৮ টি ভাগে বিভক্ত- (সূত্রস্থান, নিদানস্থান, বিমানস্থান, শারীরস্থান, ইন্দ্রিয়স্থান, চিকিৎসাস্থান, কল্পস্থান ও সিদ্ধিস্থান।
চরকই প্রথম মানব দেহের পরিপাক, বিপাক ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পর্কে বলেন। তিনি শরীরের কার্যকারিতার জন্য ৩ টি 'দোষ' বা উপাদানের কথা বলেছেন। সেগুলো হল - বাত, পিত্ত ও কফ। এই তিনটির সামঞ্জস্য নষ্ট হলে শরীর অসুস্থ হয়। অার সামঞ্জস্য ফিরে এলে শরীর সুস্থ হয়। চরক এ-ও বলেছেন- রোগের চিকিৎসার চেয়ে রোগ প্রতিরোধ করা বেশি জরুরি। তিনি রোগীর চিকিৎসার পূর্বে রোগের কারণসমূহ এবং পরিবেশ সম্পর্কে যথার্থরূপে ভাবতে বলেছেন।
চরক প্রজনন বিদ্যা সম্পর্কে জানতেন। এমনকি শিশুর লিঙ্গ নির্ণয়ের কারণসমূহও জানতেন। মানব দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সম্পর্কে তাঁর ধারণা ছিল। তিনি মানব দেহে দাঁতসহ ৩৬০ টি অস্থির কথা বলেছেন। হৃদপিণ্ডকে বলেছেন দেহের নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র। ১৩ টি পথে এ কেন্দ্র সমগ্র শরীরের সঙ্গে যুক্ত। বর্তমান কালেও অায়ুর্বেদ চিকিৎসা এ গ্রন্থের গুরুত্ব অনেক। চরকসংহিতা রচনা করো চরক সমগ্র মানব জাতির বিশেষ মঙ্গল সাধন করেছেন। সুশ্রুতসংহিতা এবং চরকসংহিতা উভয় গ্রন্থই ৭৫০ খ্রিস্টাব্দে খলিফা অাব্বাসীর সময় অারবি ভাষায় অনূদিত হয় এবং এর মাধ্যমে ইউরোপে প্রচারিত হয়। ফলে ইউরোপের অনেক চিকিৎসক ভারতবর্ষে চিকিৎসাবিদ্যা সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করেন।
সংগ্রহ : সনাতন ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা
### প্রচারে : S.i.V (Society of Issue Virtue - ধর্ম প্রচারের সংঘ)


No comments:
Post a Comment