Saturday, November 12, 2016

''শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা যথাযথ '' কিভাবে প্রথম ছাঁপা হল ?




# নিউইয়র্ক ১৯৬৮ #

''ভগবদগীতা যথাযথ'' প্ৰকাশ করার জন্য শ্ৰীল প্ৰভুপাদ ছিলেন দৃঢ় প্রতিজ্ঞ
কিন্তু মুদ্রণের জন্য যথেষ্ট অৰ্থ ছিল না। অ্যালেন ভক্ত না হলেও, তিনি ছিলেন সহানুভূতি পরায়ন এবং উৎসাহীমানুষ, তিনি সহায়তা করতে চেষ্টা করতেছিলেন। অ্যালেন ভারতে গিয়েছিলেন, তিনি কীৰ্তন পছন্দ করেন।প্ৰভুপাদ তাকে নিৰ্দেশ দিয়েছিলেন, তিনি কবিতা পাঠ করার আগে যেন, হরেকৃষ্ণ উচ্চারণ করেন, আর অ্যালেন তা করতেন। অ্যালেন ভারত থেকে একখানা হারমোনিয়াম এনেছিলেন, সেটি তিনি প্ৰভুপাদকে দান করেছিলেন।
তিনি কিছু অৰ্থও দান করেছিলেন, আর তিনি প্ৰভু অভিবাসনের কাগজপত্রের
ব্যাপারেও সাহায্য করেছিলেন। প্ৰভূপাদের ভগবদগীতার পাণ্ডুলিপি তার প্রকাশককে ছাপার জন্য দিয়েছিলেন কিন্তু ওরা তা প্ৰত্যাখ্যান করে। তিনি তা অন্য আর একজন প্ৰকাশকের নিকট প্রেরণ করেছিলেন, তারাও তা প্ৰত্যাখ্যান
করে। এইভাবে মাস ছয়েক চেষ্টা করার পর তিনি হতাশ হয়ে পড়েন। সেই পাণ্ডুলিপি প্ৰভুপাদ রায়রাম কে দেন, রায়রাম ছিল ব্যাক টু গডহেডের সম্পাদক। তিনি পাঠ্য পুস্তক প্ৰকাশকের নিকট প্রেরণ করলেন, তারাও
প্ৰত্যাখ্যান করেন। রায়রাম সব চেষ্টা ছেড়ে দিল। তখন প্ৰভুপাদ সেই পান্ডুলিপি ব্রহ্মানন্দ দাসকে দিলেন। ব্রহ্মানন্দ ভাবতে ছিল যে, এই বইটি ব্যবসায়িক গুরুত্ব নেই। প্রতিটি পৃষ্ঠাতেই কৃষ্ণ চেতনা। যে ব্যক্তি যদি কৃষ্ণভক্ত না হয়, আর কৃষ্ণভাবনামৃতের প্রতি আগ্ৰহ না থাকে, তাহলে সে এই ভাষ্যের প্রতি আগ্ৰহী হবে না। তাতে কোন কাল্পনিক কবিতা নেই, পণ্ডিত ব্যক্তির মতো পদটিকা নেই, পাঠ্য বিষয় নেই, রহস্যমূলক কিছু নেই। আমার বিশ্বাস ছিল না কেউ ছাপাবে, আমি জানি না এখন আমি কি করব। সে বই - এর দোকান, গ্ৰন্থাগারে গেল, শিখতে হবে কীভাবে বই প্রকাশ করতে হয়।
ইতিমধ্যে, প্ৰভুপাদ হরেকৃষ্ণ কীৰ্তনের একখানা রেকর্ড করেছিলেন, রেকর্ডটি বেশ সুনাম অৰ্জন করল। তারগলে প্রতিদিন অনেক চিঠি আসত।চিঠিপত্রেগুলো প্ৰভূপাদের কাছে নিয়ে গিয়ে, ব্রহ্মানন্দ প্রভুপাদ মিলে সেগুলো খুলে দেখত। তিনি তার উত্তর বলে দিতেন, আর সে লিখে নিত। একদিন বিশ্ববিখ্যাত প্ৰকাশক সংস্থা, ম্যাকমিলান থেকে রেকর্ডের জন্য একটি বায়না এসেছে। ম্যাকমিলানের চিঠিলেখার ছাপা কাগজে বায়না দিয়েছে, আর তার
সঙ্গে একখানা চেক্ও পাঠিয়েছে প্ৰভুপাদের কাছে গিয়ে সে বলল, " প্ৰভুপাদ, ম্যাকমিলান থেকে চিঠি লিখেছে ? ” আমি বুঝতে পারছিলাম না, কী করব। আমি অসহায়''। প্ৰভুপাদকে কিছুক্ষণ চিন্তা করে বললেন, ‘রেকর্ডগুলো নিয়ে তুমি নিজেই কাল ওদের ওখানে যাও। উনাদেরকে বলবে যে, ''তোমরা যদি চাও আমাদের ভগবদগীতা প্ৰকাশ করতে পার আর পাণ্ডুলিপিগুলি সঙ্গে নিয়ে
যাবে”। পরের দিন ব্রহ্মানন্দ স্যুট আর টাই পরে নিউইয়র্ক শহরস্থ বিখ্যাত ম্যাকমিলান কোম্পানীর গগণচুম্বি অট্রালিকায় গেল। যে ব্যক্তি রেকৰ্ড ক্ৰয় করছেন, তিনি হচ্ছেন একজন হিসাব রক্ষক। তিনি কেবল হিসাব - নিকাশ করেন, প্ৰকাশনার ব্যাপারে তার করণীয় কিছুই নেই। ব্রহ্মানন্দ ভাবছিল, “আমি তাকে কিভাবে বলব ? তাকে আমি কী বলব ?
তারা রেকড সম্বন্ধে, মহামন্ত্ৰ সম্বন্ধে আলোচনা করছিল, সে যেন হতবুদ্ধি হয়ে পড়েছিল। হঠাৎতই পাশের দরজাটা খুলে একজন ভদ্ৰলোক বেরিয়ে এলেন।
আর সেই হিসাব রক্ষক বললেন, “ ইনি হচ্ছেন জেমস ওয়েড। ইনিই আমাদের
প্রধান সম্পাদক''। ব্রহ্মানন্দ শ্ৰীযুক্ত ওয়েড - এর সঙ্গে করমদন করল এবং ঠিক উনার মুখের দিকে তাকিয়ে বলল, ''আমাদের একটা ভগবদ্গীতা আছে তা প্ৰকাশ করতে হবে''।

উনি বললেন, ''ভগবদগীতা ? ” কোন স্বামীজির ?ভারতীয় স্বামী ? উনি কি এখন নিউইয়র্কে আছেন ? তিনি নিজেই লিখেছেন ?
ব্রহ্মানন্দ বলল, “ আজ্ঞে প্রভুপাদ নিজে লিখেছেন''।
উনি বললেন , “ সম্পূৰ্ণ ভগবদগীতা ?
ব্রহ্মানন্দ বলল, “ আজ্ঞে''।
উনি বললেন , “ আমাদের ধৰ্মীয় বিভাগটি পূরণ করার জন্য আমি ঠিক এটিই খুঁজছিলাম, বৌদ্ধধর্মের আমি পেয়েছি, আমাদের সবই আছে, কিন্তু ভগবদগীতা নেই। আমরা ওটা প্ৰকাশ করব''।
কৃষ্ণের কৃপা ব্রহ্মানন্দ বিশ্বাস করতে পারছিল না, কি সব ঘটে চলেছে।পাণ্ডুলিপি না দেখেই বিশ্ববিখ্যাত প্রকাশক ম্যাকমিলান গ্রুপ তা প্ৰকাশ করতে রাজী হয়ে গেল। কিছুদিনের মধ্যেই লক্ষ লক্ষ আমেরিকানদের হাতে এই ''ভগবদ্গীতা যথাযথ'' চলে যাবে। যে কোন কারণেই হোক সবাই প্ৰত্যাখ্যান করেছে, আর এখানে উনি রাজী হয়ে গেলেন পান্ডুলিপি না দেখেই। ব্রহ্মানন্দ ছুটে গিয়ে প্ৰভুপাদকে এই সংবাদ জানাল। ব্রহ্মানন্দ যেন আনন্দে আতাহারা হয়ে উঠেছিল, সে নৃত্য করতে লাগল। প্রভুপাদ সেটিই আশা করেছিলেন, সেইরুপ কৃষ্ণভক্তিতে মাথা নাড়লেন।
Bhagavad-Gītā As It Is is a translation and
commentary of the ... It was first published in
1968 by Macmillan Publishers, with an unabridged
edition in 1972. A second edition .... Print/export.
Create a book ...
শ্রীল প্রভুপাদ যেন জানতেন, এই '' শ্রীমদ্ভগবদগীতা যথাযথ'' এর পুর্নজ্ঞান ও
যথার্থ ব্যাখা দিব্যজ্ঞান সমন্বিত এই মহৎ গ্রন্থটি সুষ্ঠ ও ব্যাপকভাবে
কৃষ্ণভাবনামৃত আন্দোলন পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠা করবে এবং তার গুরুমহারাজের কৃপায় পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণই ''শ্রীমদ্ভগবদগীতা যথাযথ'' প্রকাশ ও প্রচার করলেন।।


[{( জয় শ্রীল প্রভুপাদ )}]

No comments:

Post a Comment