★ মন্দির পরিক্রমা - সীতাকুণ্ড চন্দ্রনাথ ধাম ★
(★) দেশের সনাতনী সম্প্রদায়ের অন্যতম তীর্থস্থান চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথ ধাম। পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত এই ধামে বাৎসরিক অনুষ্ঠানসহ বছর জুড়ে দর্শনার্থীদের প্রচন্ড ভির। দেশ - বিদেশের নানা স্থান থেকে সনাতন সম্প্রদায়ের পূর্ণার্থীরা একনজরে ইতিহাসের স্বাক্ষী এই মন্দির দর্শন করতে অাসেন। শুধু সনাতন সম্প্রদায় ছাড়াও অন্যান্য সম্প্রদায়ের লোকজনও সীতাকুণ্ডের এই তীর্থস্থানসহ অাশ-পাশের পাহাড় দেখতে ছুটে অাসেন। সব মিলিয়ে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার পদচারণায় সারা বছরই মুখরিত থাকে এই তীর্থস্থান। উপচে পড়া ভিড় সামলাতে কর্তৃপক্ষকে হিমসিম খেতে হয়। এই পাহাড়ের সৌন্দর্য্য উপভোগ করার জন্য সকল সম্প্রদায়ের কাছে এই স্থানটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের এক অপরূপ লীলাভূমি বলে পরিচিত। জানা যায়, সীতাকুণ্ড উপজেলাকে ঘিরে এই পাহাড়টির বেশ কিছু বিশেষত্ব রয়েছে। চন্দ্রনাথ ধামটি পাহাড়ের পাদদেশ থেকে [{(> ১৩০০ ফুট <)}] উচ্চতায় অবস্থিত। মনোরম পরিবেশের মধ্যে এই মন্দিরটি অবস্থিত হওয়ায় ভ্রমণ পিপাসু লোকেরা প্রতিনিয়ত এই পাহাড়ে উঠছে এবং এই পাহাড়ে উঠাকে অনেকে চ্যালেঞ্জ হিসাবে নিয়ে থাকে। এই পাহাড়ে ওঠার অাগে প্রথমে ভৈরব মন্দিরের অপরূপ নিদর্শন চোখে পড়বে। এই মন্দিরের পুকুরে স্নান করাকে পূর্ণ স্নান মনে করেন সবাই। এর একটু সামনে গেলে চোখে পড়বে শংকর মঠ। যার সৌন্দর্য্যে মোহিত হয়েছেন অনেক পর্যটক। এর পর সোজা পিজ ধরা রাস্তা দিয়ে হাঁটলে চোখে পড়বে উপজেলা মহাশ্মশান। এর চারিদিকে চোখে পড়বে অারো অনেক মঠ-মন্দির। এরপর সরু পাহাড়ের মনোরম দৃশ্যের মধ্যে দিয়ে হাঁটলে চোখে পড়বে শম্ভুনাথ বাড়ি। যেখান থেকে চন্দ্রনাথ পাহাড়ে উঠার মূল ধাপ। এই মন্দিরের অপরূপ নিদর্শন দর্শন করার পর ভ্রমণ পিপাসুরা যাত্রা শুরু করে চন্দ্রনাথের দিকে। দুই পাশে মনোরম বিভিন্ন গাছগাছালির দৃশ্য চোখে পড়বে। হাঁঠতে হাঁঠতে ক্লান্ত হয়ে পড়ে যখন শরীর, তখন দূর থেকে চোখে পড়া চন্দ্রনাথ পাহাড় দেখলে সকল ক্লান্তি যেন নিমিষে চলে যায়। অপরূপ সৌন্দর্য্যের পাহাড়টি যেন সবাইকে হাত ছানি দিয়ে ঢাকছে কাছে অাসার জন্য। চন্দ্রনাথের দিকে উঠতে উঠতে চোখে পড়বে হরেক রকমের বাগান। পেঁয়ারা, অামলকি, বেল, কাঁঠাল ইত্যাদি নানা রকমের বাগানের মনোরম দৃশ্য চোখে পড়বে। বিশেষ করে পেঁয়ারা বাগান সবাইকে অাকৃষ্ট করে। হাত বাড়ালে ধরা পড়বে ছোট ছোট সুমিষ্ট পেঁয়ারা ও অামলকি। যখন কাঙ্খিত লক্ষে পৌঁছাতে ক্লান্তির ছাপ পড়বে সারা শরীরে। ওষ্ঠা গত প্রাণ যখন চাইবে একটু পানি ঠিক তখনি চোখে পড়বে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের এক অপরূপ ঝর্ণা। যেন মায়া মূর্তি হয়ে দাঁড়িয়ে অাছে সামনে। যা দেখে সকল ক্লান্তি দূর হয়ে যায় নিমিষে। তবে এই ঝর্ণাটির সৌন্দর্য্য দেখতে হলে বেগ পেতে হবে একটু সবাইকে। কারণ প্রকৃতি বিরোধী কিছু লোক এর অপার সৌন্দর্য্যটা সহ্য করতে পারেনি। তাই এই ঝর্ণাটি এখন প্রায় মরণাপন্ন। তবে পানির ধারা ধরে একটু কষ্ঠ করে উপরে উঠলে ধরা পড়বে এর স্নিগ্ধতা। এই ঝর্ণাটিকে ঘিরে ভ্রমন পিপাসুদের উচ্ছ্বাসের কোন শেষ নেই। ঝর্ণা থেকে উপরের দিকে তাকালে দেখা যাবে বিরুপক্ষ ও চন্দ্রনাথ পাহাড়। কথিত অাছে, অাগে বিরুপক্ষ মন্দির দর্শন করে চন্দ্রনাথে উঠতে হয়। ঝর্ণার বাম দিকে বিরুপক্ষ হয়ে চন্দ্রনাথে উঠতে হয়। তাই ঝর্ণার শীতলতার পরশ নিয়ে নতুন করে যাত্রা শুরু করতে হয় চন্দ্রনাথের দিকে। তবে এই জায়গায় একটু সাবধানে পা চলতে হবে। তা না হলে যে কোন মুহুর্তে ঘটে যেতে পাড়ে বড় ধরণের দূর্ঘটনা। কারণ এখানকার রাস্তা গুলো খুবই বিপজ্জনক। তাছাড়া রাস্তাগুলোর তেমন কোন সংস্কার করা হয় না বলে দিন দিন এটি বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। তাই বলে কিন্তু ভ্রমণকারীরা থেমে নেই। প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ পর্যটক এখানে ভ্রমন করতে অাসছে। বিরুপক্ষের সরু পথ ধরে পৌঁছে যাবে চন্দ্রনাথে। যেখানে উঠার পর বাঁধ ভাঙ্গা অানন্দের শেষ থাকে না। চন্দ্রনাথ পাহাড় থেকে চোখে পড়বে বঙ্গোপসাগরের বিশালতা, উচু নিচু ছোট বড় বিভিন্ন প্রকারের পাহাড়। মনোরম সৌন্দর্য্যের সকল লীলাভূমি যেন এই পাহাড়ে অবস্থিত। সীতাকুণ্ডের এই চন্দ্রনাথ পাহাড়ের অপরূপ সৌন্দর্য্য অবলোকন করার পাশাপাশি ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য অারো অনেক কিছু পরিদর্শনের সুযোগ রয়েছে। একই সময়ে সীতাকুণ্ডের খ্যাতিমান সকল মঠ-মন্দির পরিভ্রমণ করতে পারেন। এখানে ভ্রমণ পিপাসুরা যে সমস্ত মঠ-মন্দির ভ্রমণ করতে পারেন তা হলো - কালিবাড়ি, শনি ঠাকুরের বাড়ী, সত্য নারায়ন ভবন, মোহন্তের অাস্তানা বাড়ি, ব্যাসকুণ্ড, ভৈরব মন্দির, অক্ষয় বট বা বটবৃক্ষ, নারায়ন ছত্র, মহাশ্মশান, হনুমানজির মন্দির, সীতাকুণ্ড, ভবানী মন্দির, স্বয়ম্ভুনাথের বাড়ী, গয়াক্ষেত্র, জগন্নাথ মন্দির, উনকোটি শিবের বাড়ী, বিরুপক্ষ মন্দির, পাতাল পুরি, জ্বালামুখী কালিবাড়ি, বাড়বকুণ্ড ও কুমারিকুণ্ড, লোকনাথ মন্দির, অনুকূল অাশ্রম সহ অারো অনেক মঠ-মন্দির। সীতাকুণ্ডের ঐতিহাসিক তীর্থ স্থানের পটভূমি নিয়ে সনাতন শাস্ত্রে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য মিলে। অনেকে মনে করে সতীদেবীর স্মৃতি বিজড়িত 'সতীকুণ্ড' কালক্রমে নাম বিকৃতির ফলে সীতাকুণ্ড রূপ নিয়েছে।।
★ সংগ্রহ : মঙ্গল প্রদীপ, মাসিক পত্রিকা।
#★# সংগ্রাহক :-> প্রবাল দাশ [ সভাপতি, {S.i.V (Society of Issue Virtue - ধর্ম প্রচারের সংঘ)}, হাটহাজারী,কেন্দ্রীয় শাখা]



No comments:
Post a Comment