Wednesday, May 13, 2026

ময়মনসিংহে ধর্ম অবমাননা অভিযোগ দেখিয়ে গ্রেফতার করা হলো হিন্দু যুবককে

শান্ত পাল, ময়মনসিংহ প্রতিনিধি :


ময়মনসিংহের নেত্রকোনায় বারহাট্টায় ফেসবুকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগে অনয় কান্তি রায় নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তিই এই পোস্টটি করেছেন কি না, তা নিশ্চিত হতে গভীর তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও তার নিকটজনেরা।


ঘটনা সূত্রে জানা যায়, অনয় কান্তি রায়ের ফেসবুক আইডি থেকে একটি ইসলাম ধর্ম নিয়ে বিতর্কিত পোস্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। বিষয়টি নিয়ে জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি হলে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে বারহাট্টা থানা পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নেয় এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে।


গ্রেপ্তার পরবর্তী পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকের মতে, বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের আইডি হ্যাক করে বা ফেক আইডির মাধ্যমে অন্যকে ফাঁসানোর ঘটনা অহরহ ঘটছে। তাই এই পোস্টটি অনয় নিজে করেছেন, নাকি অন্য কেউ তার আইডি ব্যবহার করে তাকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ফাঁসিয়েছে—সেটি এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।


এলাকাবাসী এবং সচেতন সমাজ আশা প্রকাশ করেছেন যে, পুলিশ প্রশাসন কোনো ধরনের আবেগ বা চাপের বশবর্তী না হয়ে নিরেট তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত করবে পুলিশ কিন্তু তদন্ত চলাকালীন কোনো নির্দোষ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হয়।


জেলা প্রশাসনের দৃশ্য আকর্ষণ করছি আশা করছি সঠিক তদন্ত করা হবে।

Sunday, February 22, 2026

নিভে গেল গনসংগীতের উজ্জ্বল নক্ষত্র সত্য ঘোষের প্রাণ


বিশিষ্ট গণসংগীতশিল্পী ও বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী-এর কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সদস্য সত্য ঘোষ আর নেই। তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহমুদ সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে। শোকবার্তায় নেতৃবৃন্দ বলেন, তাঁর মৃত্যুতে দিনাজপুরসহ দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এক অপূরণীয় ক্ষতি হলো।


মৃত্যুকালে ৬৬ বছর বয়সী সত্য ঘোষ দীর্ঘদিন ধরে দুরারোগ্য ফুসফুসজনিত জটিল রোগে ভুগছিলেন। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি স্ত্রী ও দুই পুত্র সন্তান রেখে গেছেন।


সত্য ঘোষ দিনাজপুর জেলা সংসদ ও ঢাকা মহানগর সংসদের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন। পাশাপাশি তিনি প্রগতিশীল বামপন্থী ছাত্র রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। উদীচীর একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে শুরু করে পর্যায়ক্রমে তিনি দিনাজপুর জেলা সংসদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। তিনি সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, দিনাজপুর জেলা কমিটির সহ-সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন। গণসংগীতে তাঁর অসাধারণ দরাজ কণ্ঠের জন্য তিনি 'দিনাজপুরের ভুপেন হাজারিকা' খ্যাতি অর্জন করেন।


শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টায় উদীচী দিনাজপুর জেলা সংসদ কার্যালয়ে তাঁর মরদেহ সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হয়। এরপর দুপুরে দিনাজপুর ফুলতলা শ্মশানে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।

Wednesday, November 23, 2016

গান্ধারীর অভিশাপে কীভাবে দেহত্যাগ হয় শ্রীকৃষ্ণের?



### উওর :- শেষ হয়েছে কুরুক্ষেত্র যুদ্ধ। রক্তাক্ত প্রান্তরে এসে সন্তানদের মৃত্যুতে ভেঙে পড়লেন গান্ধারী এই ধ্বংসলীলার জন্য তিনি দায়ী করলেন শ্রীকৃষ্ণকে তাঁকে বোঝাতে চেষ্টা করলেন কৃষ্ণ যে তিনি অনেকবার বোঝাতে চেষ্টা করেছিলেন যুদ্ধের ভয়াবহতা কিন্তু শুনতে চাননি দুর্যোধনকিন্তু কোনও কথাই মানতে চাইলেন না পুত্র শোকে কাতর গান্ধারী অভিশাপ দিলেন, কুরু বংশের মতোই নির্বিচারে ধ্বংস হয়ে যাবে শ্রীকৃষ্ণের যদু বংশগান্ধারীর অভিশাপকে আশীর্বাদ হিসেবে নিলেন কৃষ্ণ কারণ তিনি জানতেন যাদবদের বংশ একদিন অন্তর্কলহের জন্য শেষ হয়ে যাবে তাই গান্ধারী তাঁর কাজ সহজ করে দিয়েছিলেন গান্ধার কন্যা সেইসঙ্গে কৃষ্ণকেও অভিশাপ দিয়েছিলেন যে তিনি আর মাত্র ৩৬ বছর বাঁচবেন এবং হয়েওছিল তাইকুরুক্ষেত্র প্রান্তরে অভিশাপ দেওয়ার ৩৬ বছর পরে মারা গিয়েছিলেন কৃষ্ণকারণ গান্ধারীর স্থির বিশ্বাস ছিল কৃষ্ণ চাইলেই এই যুদ্ধ আটকাতে পারতেনঅন্যদিকে, দ্বারকায় ক্রমশ ভেঙে পড়ে যদু বংশ কৃষ্ণের শাসনে যে উচ্চতায় গিয়েছিল তারা, তার চেয়েও বেশি পতন হয় নিজেদের মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্বে ক্ষতবিক্ষত হয়ে যায় যদু বংশ। ঋষিদের সঙ্গে পরিহাস করায় এক দলা লোহার জন্ম দেয় কৃষ্ণ-পুত্র শাম্ব রাজা উগ্রসেনের পরামর্শে সেই পিণ্ড গুঁড়ো করে সমুদ্রে ভাসিয়ে দেয় শাম্বর বন্ধুরা পুরো ঘটনা লুকিয়ে রাখা হয় কৃষ্ণের কাছ থেকে বিভিন্ন গোষ্ঠীতে ভাগ হয়ে যাওয়া যদু বংশের অন্তর্কলহে প্রাণ হারান অনেকে তাঁদের মধ্যে ছিলেন কৃষ্ণ- পুত্র প্রদ্যুম্নও দ্বারকা এবং যাদবদের এই হাল দেখে বনবাসে চলে যান বলরাম ও কৃষ্ণ সেখানেই একদিন কৃষ্ণ দেখেন বলরামের দেহ থেকে সাপ বেরিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে তিনি বুঝতে পারেন বলরাম প্রয়াণের পরে যাত্রা করেছেন বৈকুণ্ঠের পথে এদিকে কৃষ্ণ-পুত্র শাম্বর জন্ম দেওয়া সেই লোহার পিণ্ডের কী হল? বহু চেষ্টা করেও সেটা পুরোটা গুঁড়ো করা যায়নি থেকে গিয়েছিল এক টুকরো লোহা। সমুদ্রে ফেলে দেওয়ার পরে তা গিলে নেয় একটি মাছ সেই মাছ আবার ধরা পড়ে জিরু নামে এক ব্যাধের জালে মাছের পেট থেকে লোহার খণ্ড পেয়ে তা দিয়ে তিরের ফলা বানায় জিরু সেই তির নিয়ে সে বনের মধ্যে যায় পশু শিকারে হঠাৎ তার চোখে পড়ে এক অদ্ভূত পাখি। যার গায়ে আবার কমল-চিহ্ন লাল টুকটুকে পাখিটিকে তিরবিদ্ধ করে জিরু কাছে গিয়ে বুঝতে পারে কী হয়ে গেছে আসলে কোনও পাখি নয়| সেটা ছিল শ্রীকৃষ্ণের পা ঘাসপাতার আড়ালে তাকেই পাখি বলে ভুল করে জিরু শ্রীকৃষ্ণের কাছে বারবার ক্ষমা চায় জিরু। কিন্তু কৃষ্ণ তাঁকে বোঝান, এটা কোনও অপরাধ নয় আসলে এটাই ছিল ভবিতব্য এই বলে বনের মধ্যে বিষ্ণুর মন্দিরে গিয়ে বিষ্ণু-মূর্তিতে বিলীন হয়ে যান তিনি এই জিরুরও আলাদা পরিচয় আছে বলা হয়, পূর্বজন্মে সে ছিল বালি যাকে কৃষ্ণ নিজের রাম- অবতারে অন্যায়ভাবে ঝোপের আড়াল থেকে লুকিয়ে হত্যা করেছিলেন কর্ম ফলে পরজন্মে সেই জিরুর হাতেই মৃত্যু হল কৃষ্ণের সেইসঙ্গে সত্যি হল গান্ধারীর অভিশাপ যদুবংশ ধ্বংস হল নিঃসঙ্গ মৃত্যু এসে গ্রাস করল শ্রীকৃষ্ণকে বলা হয় গান্ধারীর অভিশাপেই সমুদ্র এসে গ্রাস করে দ্বারকা নগরীকে আজও আরব সাগরের গভীরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে খ্রিস্টপূর্বে বিকশিত হওয়া প্রাচীন এই নগরীর ধ্বংসাবশেষ

Friday, November 18, 2016

রাধা কে?




রাধাকে কেউ বলে শ্রীকৃষ্ণের হ্লাদিনী শক্তি, অাবার কেউ বলে রাশ লীলা থেকে রাধা নামটি উৎপত্তি। এটাতে কোন দোষ নেই। কিন্তু রাধা নামের অারেকটি অর্থ হল ---

# রা --- শব্দটা রমন শব্দ থেকে এসেছে। রমন শব্দের অর্থ হচ্ছে অানন্দ বর্ধনকারী।

#
ধা --- শব্দটা ধারন থেকে।
# রাধার অর্থ অানন্দকে ধারন করা। যিনি অানন্দকে ধারন করে থাকেন
তিনিই "রাধা"।


#
এখানে অানন্দ টা কে?

এখানে অানন্দ টা হল শ্রীকৃষ্ণ। শ্রীকৃষ্ণের অারেক নাম সশ্চিদানন্দ। সৎ, চিৎ, অানন্দ। অানন্দ স্বরূপ শ্রীকৃষ্ণকে যিনি মনের মধ্যে ধারন করে অাছেন তিনিই "রাধা"।

#
রাধাকে বৃষভানু নন্দিনী বলা হয় কেন? বৃষভানু কে ?
"বৃষ" অর্থ বিষাদ কে বুঝানো হয়েছে। "ভানু" অর্থ ভঙ্গ কে বুঝানো হয়েছে।
সুতরাং "বৃষভানু" অর্থ যার মন থেকে বিষাদ ভঙ্গ হয়েছে। মানুষের মধ্যে মনের বিষাদ ভঙ্গ হওয়ার পরেই ত মনে অানন্দের সৃষ্টি হয়, তার সেই অানন্দটাকে মনে ধারন করাটাই হচ্ছে "রাধা"। 
অর্থাৎ বিষাদ ভঙ্গ হওয়ার পরে সে বিষাদের জায়গায় মনে যে অানন্দের অাগমন হয় সে অানন্দটাকে ধারন করাটাই হচ্ছে "রাধা"।

# শ্রীকৃষ্ণকে সশ্চিদানন্দ কেন বলা হয়?
তার মনে কোন বিষাদ নেই, সুখ দুঃখের অবকাশ নেই। তিনি এক অবস্তায়
অানন্দের মধ্যে স্থির থাকেন। তিনি কেবল অানন্দেই বিহার করেন তাই তার
নাম "সশ্চিদানন্দ"। সে অানন্দটাই হচ্ছে শ্রীকৃষ্ণের প্রিয় স্থান। যার মনে অানন্দকে ধারন (রাধা) করেছেন সেখানেই শ্রীকৃষ্ণ বিরাজ করেন। সে অানন্দই হচ্ছে শ্রীকৃষ্ণ পরমাত্মার নিবাস স্থান। "মানুষের দেহে ৫ টি স্তর অাছে"। এই ৫ টি স্তরের মধ্যে কোন স্তরে শ্রীকৃষ্ণ পরমাত্মার অংশ স্বরূপ অাত্মার নিবাস স্থান সেটা দেখে নিই।


১) অন্নময় কোষ
--- যাহা অন্ন দ্বারা গঠিত হয়েছে। অর্থাৎ এই স্থুল শরীর।
২) প্রানময় কোষ --- এই স্থুল শরীরের ভেতর সূক্ষ্মশরীর অবস্থিত।
৩) মনময় কোষ --- এটা প্রানময় কোষের ভেতর অারো সূক্ষ্মভাবে অবস্থিত।
৪) বিজ্ঞানময় কোষ --- এটা মনময় কোষের ভেতর অারো সূক্ষ্মভাবে অবস্থিত।
৫) অানন্দময় কোষ --- এটা বিজ্ঞানময় কোষের ভেতর অারো সূক্ষ্মভাবে
অবস্থিত।


এই অানন্দময় কোষের মধ্যে শ্রীকৃষ্ণ পরমাত্মার অংশ স্বরূপ অাত্মার অবস্থান।

অর্থাৎ যেখানে অানন্দ সেখানে সশ্চিদানন্দ। যেখানে রাধা (অানন্দ ধারন) সেখানে শ্রীকৃষ্ণ। আর যেখানে রাধা নেই সেখানে শ্রীকৃষ্ণও নেই। এখানে রাধা কোন নারী নয়, অানন্দের যেহেতু কোন রূপরেখা নাই। এখানে মানুষকে সহজে বুঝানোর জন্য নারী রূপ দেওয়া হয়েছে।

গীতার মাহাত্ন্য পাঠের পর গীতার এই প্রণাম সার পাঠ করা হয়



গীতায় হৃদয় মোর বলেন ভগবান,
                       গীতার মধ্যে আমি করি অবস্থান।
যে স্থানে গীতা পাঠ শ্রবণে বিচার,
                       সেই স্থানে নিত্য বাস হয় যে আমার।
প্রভাতে উঠিয়া নিত্য হয়ে শুদ্ধ মন,
                      এক অধ্যায় গীতা পাঠ করে যেই জন।
এক অধ্যায় না পারিলে শ্লোক দুই,তিন,
                      অথবা এক শ্লোক পড়েন প্রতিদিন।
শ্রীকৃষ্ণের বাণীর জ্ঞানে পড়ে যেই জন,
                       লোকান্তরে স্বর্গধামে করে সে গমন।
অসুচি অবস্থায় কিংবা অবিশ্বাস ভরে,
                     গীতা পাঠে নরক হইতে যাই লোকান্তরে।
মৃত্যুকালে গীতা গীতা উচ্চারণ করে,
                     চলে যায় সেই জন সে যায় তরে।
প্রতি গৃহে সুচি স্থানে,করিয়া স্থাপন
                     ধূপ ও দ্বীপ পুষ্পে গীতায় করহ অর্চন।
শালগ্রামে ধ্যানে যেই নিত্য পূজা করে,
                      ভাগ্যবান সে নর পৃথিবীর ভিতরে।
গীতার যে কোন মন্ত্র উচ্চারণ,
                     ফুল দাও ভক্তি ভরে হে পূজন।
গীতার ধ্যান,গীতার জ্ঞান গীতাই করো সার
                      চলিতে ফিরিতে গীতা জপে অনিবার।
পার হতে চাও যদি ভব পারাপার,
                      গীতার তরণী যোগে হয়ে যাও পার।
গীতা পাঠ করি নিত্য মাহাত্ন্য পরিলে,
                     নিশ্চয় পাইবে ফল,অব্যশই জানিবে।