### উওর :- শেষ হয়েছে কুরুক্ষেত্র যুদ্ধ। রক্তাক্ত প্রান্তরে এসে সন্তানদের মৃত্যুতে ভেঙে পড়লেন গান্ধারী। এই ধ্বংসলীলার জন্য তিনি দায়ী করলেন শ্রীকৃষ্ণকে। তাঁকে বোঝাতে চেষ্টা করলেন কৃষ্ণ। যে তিনি অনেকবার বোঝাতে চেষ্টা করেছিলেন যুদ্ধের ভয়াবহতা। কিন্তু শুনতে চাননি দুর্যোধন।কিন্তু কোনও কথাই মানতে চাইলেন না পুত্র শোকে কাতর গান্ধারী। অভিশাপ দিলেন, কুরু বংশের মতোই নির্বিচারে ধ্বংস হয়ে যাবে শ্রীকৃষ্ণের যদু বংশ।গান্ধারীর অভিশাপকে আশীর্বাদ হিসেবে নিলেন কৃষ্ণ। কারণ তিনি জানতেন যাদবদের বংশ একদিন অন্তর্কলহের জন্য শেষ হয়ে যাবে। তাই গান্ধারী তাঁর কাজ সহজ করে দিয়েছিলেন। গান্ধার কন্যা সেইসঙ্গে কৃষ্ণকেও অভিশাপ দিয়েছিলেন। যে তিনি আর মাত্র ৩৬ বছর বাঁচবেন। এবং হয়েওছিল তাই।কুরুক্ষেত্র প্রান্তরে অভিশাপ দেওয়ার ৩৬ বছর পরে মারা গিয়েছিলেন কৃষ্ণ।কারণ গান্ধারীর স্থির বিশ্বাস ছিল কৃষ্ণ চাইলেই এই যুদ্ধ আটকাতে পারতেন।অন্যদিকে, দ্বারকায় ক্রমশ ভেঙে পড়ে যদু বংশ। কৃষ্ণের শাসনে যে উচ্চতায় গিয়েছিল তারা, তার চেয়েও বেশি পতন হয়। নিজেদের মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্বে ক্ষতবিক্ষত হয়ে যায় যদু বংশ। ঋষিদের সঙ্গে পরিহাস করায় এক দলা লোহার জন্ম দেয় কৃষ্ণ-পুত্র শাম্ব। রাজা উগ্রসেনের পরামর্শে সেই পিণ্ড গুঁড়ো করে সমুদ্রে ভাসিয়ে দেয় শাম্বর বন্ধুরা। পুরো ঘটনা লুকিয়ে রাখা হয় কৃষ্ণের কাছ থেকে। বিভিন্ন গোষ্ঠীতে ভাগ হয়ে যাওয়া যদু বংশের অন্তর্কলহে প্রাণ হারান অনেকে। তাঁদের মধ্যে ছিলেন কৃষ্ণ- পুত্র প্রদ্যুম্নও। দ্বারকা এবং যাদবদের এই হাল দেখে বনবাসে চলে যান বলরাম ও কৃষ্ণ। সেখানেই একদিন কৃষ্ণ দেখেন বলরামের দেহ থেকে সাপ বেরিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি বুঝতে পারেন বলরাম প্রয়াণের পরে যাত্রা করেছেন বৈকুণ্ঠের পথে। এদিকে কৃষ্ণ-পুত্র শাম্বর জন্ম দেওয়া সেই লোহার পিণ্ডের কী হল? বহু চেষ্টা করেও সেটা পুরোটা গুঁড়ো করা যায়নি। থেকে গিয়েছিল এক টুকরো লোহা। সমুদ্রে ফেলে দেওয়ার পরে তা গিলে নেয় একটি মাছ। সেই মাছ আবার ধরা পড়ে জিরু নামে এক ব্যাধের জালে। মাছের পেট থেকে লোহার খণ্ড পেয়ে তা দিয়ে তিরের ফলা বানায় জিরু। সেই তির নিয়ে সে বনের মধ্যে যায় পশু শিকারে। হঠাৎ তার চোখে পড়ে এক অদ্ভূত পাখি। যার গায়ে আবার কমল-চিহ্ন। লাল টুকটুকে পাখিটিকে তিরবিদ্ধ করে জিরু। কাছে গিয়ে বুঝতে পারে কী হয়ে গেছে। আসলে কোনও পাখি নয়| সেটা ছিল শ্রীকৃষ্ণের পা। ঘাসপাতার আড়ালে তাকেই পাখি বলে ভুল করে জিরু। শ্রীকৃষ্ণের কাছে বারবার ক্ষমা চায় জিরু। কিন্তু কৃষ্ণ তাঁকে বোঝান, এটা কোনও অপরাধ নয়। আসলে এটাই ছিল ভবিতব্য। এই বলে বনের মধ্যে বিষ্ণুর মন্দিরে গিয়ে বিষ্ণু-মূর্তিতে বিলীন হয়ে যান তিনি। এই জিরুরও আলাদা পরিচয় আছে। বলা হয়, পূর্বজন্মে সে ছিল বালি। যাকে কৃষ্ণ নিজের রাম- অবতারে অন্যায়ভাবে ঝোপের আড়াল থেকে লুকিয়ে হত্যা করেছিলেন। কর্ম ফলে পরজন্মে সেই জিরুর হাতেই মৃত্যু হল কৃষ্ণের। সেইসঙ্গে সত্যি হল গান্ধারীর অভিশাপ। যদুবংশ ধ্বংস হল। নিঃসঙ্গ মৃত্যু এসে গ্রাস করল শ্রীকৃষ্ণকে। বলা হয় গান্ধারীর অভিশাপেই সমুদ্র এসে গ্রাস করে দ্বারকা নগরীকে। আজও আরব সাগরের গভীরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে খ্রিস্টপূর্বে বিকশিত হওয়া প্রাচীন এই নগরীর ধ্বংসাবশেষ।
Wednesday, November 23, 2016
Friday, November 18, 2016
রাধা কে?
রাধাকে কেউ বলে শ্রীকৃষ্ণের হ্লাদিনী শক্তি, অাবার কেউ বলে রাশ লীলা থেকে রাধা নামটি উৎপত্তি। এটাতে কোন দোষ নেই। কিন্তু রাধা নামের অারেকটি অর্থ হল ---
# রা --- শব্দটা রমন শব্দ থেকে এসেছে। রমন শব্দের অর্থ হচ্ছে অানন্দ বর্ধনকারী।
# ধা --- শব্দটা ধারন থেকে।
# রাধার অর্থ অানন্দকে ধারন করা। যিনি অানন্দকে ধারন করে থাকেন
তিনিই "রাধা"।
# এখানে অানন্দ টা কে?
এখানে অানন্দ টা হল শ্রীকৃষ্ণ। শ্রীকৃষ্ণের অারেক নাম সশ্চিদানন্দ। সৎ, চিৎ, অানন্দ। অানন্দ স্বরূপ শ্রীকৃষ্ণকে যিনি মনের মধ্যে ধারন করে অাছেন তিনিই "রাধা"।
# রাধাকে বৃষভানু নন্দিনী বলা হয় কেন? বৃষভানু কে ?
"বৃষ" অর্থ বিষাদ কে বুঝানো হয়েছে। "ভানু" অর্থ ভঙ্গ কে বুঝানো হয়েছে।
সুতরাং "বৃষভানু" অর্থ যার মন থেকে বিষাদ ভঙ্গ হয়েছে। মানুষের মধ্যে মনের বিষাদ ভঙ্গ হওয়ার পরেই ত মনে অানন্দের সৃষ্টি হয়, তার সেই অানন্দটাকে মনে ধারন করাটাই হচ্ছে "রাধা"। অর্থাৎ বিষাদ ভঙ্গ হওয়ার পরে সে বিষাদের জায়গায় মনে যে অানন্দের অাগমন হয় সে অানন্দটাকে ধারন করাটাই হচ্ছে "রাধা"।
# শ্রীকৃষ্ণকে সশ্চিদানন্দ কেন বলা হয়?
তার মনে কোন বিষাদ নেই, সুখ দুঃখের অবকাশ নেই। তিনি এক অবস্তায়
অানন্দের মধ্যে স্থির থাকেন। তিনি কেবল অানন্দেই বিহার করেন তাই তার
নাম "সশ্চিদানন্দ"। সে অানন্দটাই হচ্ছে শ্রীকৃষ্ণের প্রিয় স্থান। যার মনে অানন্দকে ধারন (রাধা) করেছেন সেখানেই শ্রীকৃষ্ণ বিরাজ করেন। সে অানন্দই হচ্ছে শ্রীকৃষ্ণ পরমাত্মার নিবাস স্থান। "মানুষের দেহে ৫ টি স্তর অাছে"। এই ৫ টি স্তরের মধ্যে কোন স্তরে শ্রীকৃষ্ণ পরমাত্মার অংশ স্বরূপ অাত্মার নিবাস স্থান সেটা দেখে নিই।
১) অন্নময় কোষ --- যাহা অন্ন দ্বারা গঠিত হয়েছে। অর্থাৎ এই স্থুল শরীর।
২) প্রানময় কোষ --- এই স্থুল শরীরের ভেতর সূক্ষ্মশরীর অবস্থিত।
৩) মনময় কোষ --- এটা প্রানময় কোষের ভেতর অারো সূক্ষ্মভাবে অবস্থিত।
৪) বিজ্ঞানময় কোষ --- এটা মনময় কোষের ভেতর অারো সূক্ষ্মভাবে অবস্থিত।
৫) অানন্দময় কোষ --- এটা বিজ্ঞানময় কোষের ভেতর অারো সূক্ষ্মভাবে
অবস্থিত।
এই অানন্দময় কোষের মধ্যে শ্রীকৃষ্ণ পরমাত্মার অংশ স্বরূপ অাত্মার অবস্থান।
অর্থাৎ যেখানে অানন্দ সেখানে সশ্চিদানন্দ। যেখানে রাধা (অানন্দ ধারন) সেখানে শ্রীকৃষ্ণ। আর যেখানে রাধা নেই সেখানে শ্রীকৃষ্ণও নেই। এখানে রাধা কোন নারী নয়, অানন্দের যেহেতু কোন রূপরেখা নাই। এখানে মানুষকে সহজে বুঝানোর জন্য নারী রূপ দেওয়া হয়েছে।
গীতার মাহাত্ন্য পাঠের পর গীতার এই প্রণাম সার পাঠ করা হয়
গীতায় হৃদয় মোর বলেন ভগবান,
গীতার মধ্যে আমি করি অবস্থান।
যে স্থানে গীতা পাঠ শ্রবণে বিচার,
সেই স্থানে নিত্য বাস হয় যে আমার।
প্রভাতে উঠিয়া নিত্য হয়ে শুদ্ধ মন,
এক অধ্যায় গীতা পাঠ করে যেই জন।
এক অধ্যায় না পারিলে শ্লোক দুই,তিন,
অথবা এক শ্লোক পড়েন প্রতিদিন।
শ্রীকৃষ্ণের বাণীর জ্ঞানে পড়ে যেই জন,
লোকান্তরে স্বর্গধামে করে সে গমন।
অসুচি অবস্থায় কিংবা অবিশ্বাস ভরে,
গীতা পাঠে নরক হইতে যাই লোকান্তরে।
মৃত্যুকালে গীতা গীতা উচ্চারণ করে,
চলে যায় সেই জন সে যায় তরে।
প্রতি গৃহে সুচি স্থানে,করিয়া স্থাপন
ধূপ ও দ্বীপ পুষ্পে গীতায় করহ অর্চন।
শালগ্রামে ধ্যানে যেই নিত্য পূজা করে,
ভাগ্যবান সে নর পৃথিবীর ভিতরে।
গীতার যে কোন মন্ত্র উচ্চারণ,
ফুল দাও ভক্তি ভরে হে পূজন।
গীতার ধ্যান,গীতার জ্ঞান গীতাই করো সার
চলিতে ফিরিতে গীতা জপে অনিবার।
পার হতে চাও যদি ভব পারাপার,
গীতার তরণী যোগে হয়ে যাও পার।
গীতা পাঠ করি নিত্য মাহাত্ন্য পরিলে,
নিশ্চয় পাইবে ফল,অব্যশই জানিবে।
হিন্দু সনাতন ধর্ম কি একেশ্বরবাদী ?
উত্তরঃ ঈশ্বর এক ও অদ্বিতীয়। সনাতন দর্শন বলে, ঈশ্বর স্বয়ম্ভূ অর্থাৎ ঈশ্বর নিজে থেকে উৎপন্ন, তার কোন স্রষ্টা নাই, তিনি নিজেই নিজের স্রষ্টা। আমাদের প্রাচীন ঋষিগন বলে গিয়েছেন, ঈশ্বরের কোন নির্দিষ্ট রূপ নেই (নিরাকার ব্রহ্ম) তাই তিনি অরূপ, তবে তিনি যে কোন রূপধারন করতে পারেন কারণ তিনিই বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডে সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। ঋকবেদে বলা আছে, ঈশ্বর ‘একমেবাদ্বিতীয়ম’- ঈশ্বর এক ও অদ্বিতীয়। ঈশ্বর বা ব্রহ্ম (ব্রহ্মানন) সম্পর্কে আরও বলা হয়, ‘অবাংমনসগোচর’ অর্থাৎ ঈশ্বরকে কথা (বাক), মন বা চোখ দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না, তিনি বাহ্য জগতের অতীত।
ঈশ্বর সম্পর্কে ঋকবেদে বলা আছে- ‘একং সদ বিপ্রা বহুধা বদন্তি (ঋক-১/৬৪/৪৬)
অর্থাৎ সেই এক ঈশ্বরকে পণ্ডিতগণ বহুনামে বলে থাকেন।
‘একং সন্তং বহুধন কল্পায়ন্তি’ (ঋক-১/১১৪/৫) অর্থাৎ সেই এক ঈশ্বরকে বহুরূপে কল্পনা করা হয়েছে।
‘দেবানাং পূর্বে যুগে হসতঃ সদাজায়ত’ (ঋক-১০/৭২/৭)
অর্থাৎ দেবতারও পূর্বে সেই অব্যাক্ত (ঈশ্বর) হতে ব্যক্ত জগত উৎপন্ন হয়েছে।
ঈশ্বর সম্পর্কে ঋকবেদে বলা আছে- ‘একং সদ বিপ্রা বহুধা বদন্তি (ঋক-১/৬৪/৪৬)
অর্থাৎ সেই এক ঈশ্বরকে পণ্ডিতগণ বহুনামে বলে থাকেন।
‘একং সন্তং বহুধন কল্পায়ন্তি’ (ঋক-১/১১৪/৫) অর্থাৎ সেই এক ঈশ্বরকে বহুরূপে কল্পনা করা হয়েছে।
‘দেবানাং পূর্বে যুগে হসতঃ সদাজায়ত’ (ঋক-১০/৭২/৭)
অর্থাৎ দেবতারও পূর্বে সেই অব্যাক্ত (ঈশ্বর) হতে ব্যক্ত জগত উৎপন্ন হয়েছে।
পিয়াজ রসুন মসুর ডাল প্রভৃতি গাছের ফল হলেও কেন সেগুলিকে আমিষ খাদ্য বলা হচ্ছে?
উত্তরঃ পিয়াজ রসুন এগুলো গাছের ফলও নয়, আমিষ খাদ্যও নয়। সাত্ত্বিক খাদ্যই মন ও শরীর গঠনের অনুকূল। ডিম, মাছ, কচ্ছপ, চিংড়ি, কাঁকড়া, হাঁস, কাক, ছাগল, কুকুর, শুকর, গরু, বাদুড় ও মানুষ ইত্যাদি রক্ত মাংস
যুক্ত তন্মধ্যে বস্তুকে আহার করাই হচ্ছে সমাজের কুসংস্কার। পিয়াজ রসুন মসুর ডাল প্রভৃতি খাদ্য অধিক উত্তেজক বস্তু জেনে আত্বিক ব্যক্তিরা এগুলি গ্রহন করতে নিষেধ করেছেন মাত্র। পুরানে উক্ত হয়েছে সমুদ্র মন্থনকালে উত্থিত অমৃত ভগবান মুহিনী অবতার দ্বারা পরিবেশ কালে দেপ ছদ্মবেশী
রাহুনামকে এক অসুর অমৃত গ্রহন করেছিলেন। এমন সময় চন্দ্র সূর্যদেবের
ইঙ্গিতে মুহিনী অবতার সুদর্শন চক্র দিয়ে রাহুর গলা কেটে দেন। রাহু অসুরের রক্ত মাটিতে পতিত হলে সেখান থেকে পিয়াজ রসুনের জন্ম হল। তাই পিয়াজ রসুন গ্রহন করলে শরীরে আসুরিক ভাব ও উত্তেজনা বৃদ্বি পায়। সেই হেতু ঐ উত্তেজক পদার্থ ব্যক্তিগণ গ্রহন করেন না মনুসংহিতায় পিয়াজ রসুন খেতে নিষেধ রয়েছে। মসুর ডাল ও এই রকমই ডাল যা অন্যান্য আমিষ খাদ্যের মতোই মানুষের শরীরে আত্বিক ভাব নষ্ট করে।মুসুর ডালে প্রচুর প্রোটিন জাতীয় পদার্থ থাকে যা মানুষের শরীরে স্বাভাবিক প্রোটিনের চাহিদা পুরনের পরেও বারতি থাকে এবং স্বভাবতই ইহা দীর্ঘ দিন সেবনের ফলে মানুষকে কামপ্রবনে বাধ্য করে তাই মুসুর ডালকে আমিষ বলা হয়।মাছ, মাংস ও ডিম ইত্যাদি উগ্র হিংস্র প্রাণীর খাদ্য মানুষকে খেতে নিষেধ করা হয়েছে। ফল ফুল পাতা ইত্যাদি উদ্ভিজ খাদ্য মানুষকে গ্রহন করতে ভগবান নির্দেশ দিয়েছেন। ফল, ফুল, পাতা মাটিতে ঝরে পড়লে তবে সেই ফল, ফুল, পাতা খাদ্য হিসাবে গ্রহন করা যাবে। নতুবা গ্রহন করা পাপ হবে। এরকম কথা আমরা শুনিনি। লাউ,পুঁই, বেগুন, কুমড়ো, শশা, লংকা, ঢেঁড়স, ইত্যাদি গাছ থেকে পাতা কিংবা ফল ঝরে পড়লেসেই পাতা বা ফল খাওয়া যাবে নতুবা যাবে না এ্ই রকম কথা কোথাও লেখা নেই। ভগবানকে পূজা করতে হলে গাছথেকে ফুল ছিড়ঁতেই হয়। অতএব, ভগবানকে নিবেদন করে উদ্ভিজ খাদ্য গ্রহন করলে কোন পাপ হওয়ার কথা নয়।।
যুক্ত তন্মধ্যে বস্তুকে আহার করাই হচ্ছে সমাজের কুসংস্কার। পিয়াজ রসুন মসুর ডাল প্রভৃতি খাদ্য অধিক উত্তেজক বস্তু জেনে আত্বিক ব্যক্তিরা এগুলি গ্রহন করতে নিষেধ করেছেন মাত্র। পুরানে উক্ত হয়েছে সমুদ্র মন্থনকালে উত্থিত অমৃত ভগবান মুহিনী অবতার দ্বারা পরিবেশ কালে দেপ ছদ্মবেশী
রাহুনামকে এক অসুর অমৃত গ্রহন করেছিলেন। এমন সময় চন্দ্র সূর্যদেবের
ইঙ্গিতে মুহিনী অবতার সুদর্শন চক্র দিয়ে রাহুর গলা কেটে দেন। রাহু অসুরের রক্ত মাটিতে পতিত হলে সেখান থেকে পিয়াজ রসুনের জন্ম হল। তাই পিয়াজ রসুন গ্রহন করলে শরীরে আসুরিক ভাব ও উত্তেজনা বৃদ্বি পায়। সেই হেতু ঐ উত্তেজক পদার্থ ব্যক্তিগণ গ্রহন করেন না মনুসংহিতায় পিয়াজ রসুন খেতে নিষেধ রয়েছে। মসুর ডাল ও এই রকমই ডাল যা অন্যান্য আমিষ খাদ্যের মতোই মানুষের শরীরে আত্বিক ভাব নষ্ট করে।মুসুর ডালে প্রচুর প্রোটিন জাতীয় পদার্থ থাকে যা মানুষের শরীরে স্বাভাবিক প্রোটিনের চাহিদা পুরনের পরেও বারতি থাকে এবং স্বভাবতই ইহা দীর্ঘ দিন সেবনের ফলে মানুষকে কামপ্রবনে বাধ্য করে তাই মুসুর ডালকে আমিষ বলা হয়।মাছ, মাংস ও ডিম ইত্যাদি উগ্র হিংস্র প্রাণীর খাদ্য মানুষকে খেতে নিষেধ করা হয়েছে। ফল ফুল পাতা ইত্যাদি উদ্ভিজ খাদ্য মানুষকে গ্রহন করতে ভগবান নির্দেশ দিয়েছেন। ফল, ফুল, পাতা মাটিতে ঝরে পড়লে তবে সেই ফল, ফুল, পাতা খাদ্য হিসাবে গ্রহন করা যাবে। নতুবা গ্রহন করা পাপ হবে। এরকম কথা আমরা শুনিনি। লাউ,পুঁই, বেগুন, কুমড়ো, শশা, লংকা, ঢেঁড়স, ইত্যাদি গাছ থেকে পাতা কিংবা ফল ঝরে পড়লেসেই পাতা বা ফল খাওয়া যাবে নতুবা যাবে না এ্ই রকম কথা কোথাও লেখা নেই। ভগবানকে পূজা করতে হলে গাছথেকে ফুল ছিড়ঁতেই হয়। অতএব, ভগবানকে নিবেদন করে উদ্ভিজ খাদ্য গ্রহন করলে কোন পাপ হওয়ার কথা নয়।।
Thursday, November 17, 2016
★ ফতেয়াবাদে সত্যানন্দ সাধুর মঠ ★
★ মন্দির পরিক্রমা - সত্যানন্দ সাধুর মঠ ★
#*# চট্টগ্রামের হাটহাজারীর ফতেয়াবাদ এলাকার সিটি কর্পোেরশনের ১ নম্বর দক্ষিণ পাহাড়তলী ঐতিহাসিক সাধুর পাহাড়টি ব্রিটিশ বিরোধী অান্দোলনের পুরাধা Master The সূর্য সেনের স্মৃতি বিজরিত। এ পাহাড়ে মাস্টারদা' র ধর্মীয় গুরু সত্যানন্দ সাধুর সমাধী পীঠ। জানা যায়, শ্রীমৎ স্বামী সত্যানন্দ পটিয়া উপজেলার ধলঘাট রেলস্টেশনের কাছে গৈরালা গ্রামে ১৭শ শতকের শেষ দিকে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি নির্জন সাধনায় মগ্ন ছিলেন। এক সময় তিনি তীর্থ পরিক্রমায় বের হয়ে সীতাকুণ্ড, চন্দ্রনাথ দর্শন করেন। পরে তিনি চৌধুরীহাট এলাকার পশ্চিম পার্শ্বে গভীর অরণ্যের সুইচ্চ পাহাড়ে ধ্যাণ মগ্ন হয়ে সাধনা লাভ করেন। ব্রিটিশ বিরোধী অান্দোলন শুরু হলে মাস্টারদা সূর্য সেন সহ স্বরাজি অান্দোলনের অনেকে অাত্মগোপন করতে গিয়ে এ সাধুর সাক্ষাৎ প্রাপ্ত হয়। অান্দোলনকারীরা সেখান থেকে অান্দোলন চালাতে থাকে। পরবর্তীতে লোকজন এ সাধুর নানা অলৌকিক কাযর্ক্রম অবহিত হয়ে তার অনুসারী হয়ে উঠে। পরবর্তী সময়ে স্বামী সত্যানন্দ সাধু দেহ ত্যাগ করলে পাহাড় চূড়ায় তাকে সমাধী দেওয়া হয়। সাধুর পাহাড়ের বিশাল সম্পদ রয়েছে। পাহাড়ী এলাকার চতুরপার্শ্বে প্রায় ১২ থেকে ১৫ একর সম্পদ রয়েছে সাধুর পাহাড়ের। এ মঠটি সীতাকুণ্ড শংকর মঠের পরিচালনাধীন একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। সত্যানন্দ মঠ বিগত ২০১২ সালে বৃক্ষ রোপনে পরিবেশ রক্ষায় অবদান রাখার জন্য প্রধান মন্ত্রীর পুরষ্কারের জন্য দ্বিতীয় হয়। বিগত কয়েক বছর পূর্বে এক শ্রেণীর স্বার্থান্বেষী সুউচ্চ সাধুর পাহাড়ের চতুর্দিক থেকে মাটি কাটার ফলে পাহাড়ের ভাঙ্গন তীব্র অাকার ধারণ করেছে। পাহাড়ের অব্যাহত ভাঙ্গনের ফলে সুউচ্চ সাধুর পাহাড় এখন বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়ে পড়েছে। তাছাড়া ঐতিহাসিক স্থানের বিভিন্ন দিকের বিশাল জায়গা এক শ্রেণীর ভূমি দস্যূ দখল করে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ঐতিহাসিক সাধুর পাহাড় ভাঙ্গনের হাত থেকে রক্ষার জন্য বিভিন্ন সময় সরকারের থাকা নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসকগণ অাশ্বাস দিলেও এ যাবৎ কেউ এ ব্যাপারে কোন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। ফলে ভাঙ্গন এখন ভয়াবহ অাকার ধারণ করেছে। ব্রিটিশ বিরোধী অান্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত এ পাহাড়ের ভাঙ্গন রোধ এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে।
★সংগ্রহ : মঙ্গল প্রদীপ, মাসিক পত্রিকা।
★ সংগ্রাহক : সুরোজ বণিক [ প্রচার সম্পাদক, { S.i.V (Society of Issue Virtue - ধর্ম প্রচারের সংঘ)}, হাটহাজারী কেন্দ্রীয় শাখা ]
Tuesday, November 15, 2016
সনাতনীদের বিশেষ তীর্থস্থান চন্দ্রনাথ ধাম এর ইতিহাস ( ১ম অংশ )
★ মন্দির পরিক্রমা - চন্দ্রনাথ ধাম ★
### বিষ্ণুর সুদর্শন চক্র দ্বারা খন্ডনকৃত সতীর ডান হাত পড়ে চট্টগ্রামের
সীতাকুন্ডের চন্দ্রনাথ ধামে। গবেষকদের মতে সতীর স্মৃতি বিজড়িত চট্টগ্রামের চন্দ্রনাথ ধামের নাম প্রথমে ছিল সতীকুন্ড কালের বিবর্তনে তা সীতাকুন্ড হিসাবে পরিচিতি লাভ করে। তবে বিষয়টি বির্তকিত। প্রতি বছর ফাল্গুন মাসের কৃষ্ণ পক্ষের শিব চতুর্দশীতে মানুষের মেলা বসে
চট্টগ্রাম শহর থেকে ৩৭ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত সীতাকুন্ড পাহাড়ে।এই তীর্থক্ষেত্র ৩৫০ কিলোমিটারের এক বিশাল অংশের পাহাড় এলাকা ঘিরেই আবর্তিত। এ অংশের মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্য সত্যিই মনোমুগ্ধকর। পাশাপাশি এখানে দুই পাহাড়ের শীর্ষস্থানে আছে দুটি মন্দিরের অবস্থান। একটি বিরুপাক্ষ মন্দির অন্যটি চন্দ্রনাথ মন্দির।চন্দ্রনাথ মন্দিরটি সমতল ভূমি থেকে ১৩০০ ফুট উচ্চে পাহাড়ের শীর্ষদেশে অবস্থিত। এ মন্দির তথা পাহাড় একে অন্যে মিলেমিশে একাকার হয়ে চন্দ্রনাথ ধাম হিসাবে পরিচিতি লাভ করে। প্রতি বছর শ্রীশ্রী শিবরাত্রি ব্রত উপলক্ষ্যে বাংলাদেশের প্রধান তীর্থস্থান হিসাবে খ্যাত চন্দ্রনাথ ধামে বসে মানুষের মিলন মেলা।
তীর্থ স্থানে গেলে মন পবিত্র হয়। মনে ধর্ম ভাব জাগে। ধর্মভাব জাগরনে মনের
কলুষতা দূর হয়। পাপ কাজ থেকে মনকে সরিয়ে আনা সম্ভব হয়। তীর্থস্থান
মানুষের মিলন মেলার স্থান। সেখানে গেলে কোন হিংসা-বিদ্বেষ, উচু নীচু ভেদ বৈষম্য কিংবা জাগতিক লোকসানের চিন্তাবোধ থাকেনা। তীর্থস্থান ভ্রমনের ফলে মনের ময়লা দূর হয়,পূর্ন্য আসে,মন জুড়ায়,অশান্তি দুর হয়।সীতা মন্দির নামে পাহাড়ের পাদদেশে আছে একটি মন্দির। এ মন্দিরটির অবস্থান আকর্ষনীয়। ধর্মীয় গাম্ভীর্যের ভাব আর প্রকৃতির নির্ঝরনী শব্দ দুয়ে মিলে
মনোরম দূশ্য মুগ্ধ করে আগন্তুক ভক্তদের। উক্ত মন্দির অভ্যন্তরে আছে চতুর্ভূজা সীতাদেবীর মূর্তি। ত্রিপুরার ইতিহাসের তথ্যানুযায়ী সম্ভুনাথ মন্দিরের প্রথম কাজ হয়েছিল ১৫০১ খ্রিষ্ঠাব্দে। ত্রিপুরার মহারানী রত্নমঞ্জরী ১৯২০/১৯২৪ সালে এ মন্দিরটি সংস্কার করে।এ ছাড়াও মধ্যবর্তী পাহাড়ে আছে আরও বেশ কয়েকটি মন্দির। স্বয়ম্ভুনাথ, রামকুন্ড, লক্ষনকুন্ড মন্দিরের নাম বিশেষভাবে উল্যেখযোগ্য।উল্লেখিত মন্দির গুলোর মধ্যে এই তিথিতে ভক্ত সমাগম ও পুজার্চনা হয় সম্ভুনাথ মন্দিরে।কেননা সুউচ্চ পাহাড়ে যাদের পক্ষে উঠা সম্ভব হয়না তারাই এ মন্দিরে পুজার্চনা করেন। সম্ভুনাথ মন্দিরটি ষোড়শ শতাব্দিতে ধনমানিক্য বাহাদুর,পরৈকোড়ার জমিদার বৃন্দাবন দেওয়ানের মাতা দুর্গারানী, প্রতাপ চৌধুরী ও মুক্তাগাছার জমিদার বিদ্যাময়ী দেবীর অর্থায়নে নির্মিত।
সীতাকুণ্ড চন্দ্রনাথ ধাম ( ২য় অংশ )
★ মন্দির পরিক্রমা - সীতাকুণ্ড চন্দ্রনাথ ধাম ★
(★) দেশের সনাতনী সম্প্রদায়ের অন্যতম তীর্থস্থান চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথ ধাম। পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত এই ধামে বাৎসরিক অনুষ্ঠানসহ বছর জুড়ে দর্শনার্থীদের প্রচন্ড ভির। দেশ - বিদেশের নানা স্থান থেকে সনাতন সম্প্রদায়ের পূর্ণার্থীরা একনজরে ইতিহাসের স্বাক্ষী এই মন্দির দর্শন করতে অাসেন। শুধু সনাতন সম্প্রদায় ছাড়াও অন্যান্য সম্প্রদায়ের লোকজনও সীতাকুণ্ডের এই তীর্থস্থানসহ অাশ-পাশের পাহাড় দেখতে ছুটে অাসেন। সব মিলিয়ে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার পদচারণায় সারা বছরই মুখরিত থাকে এই তীর্থস্থান। উপচে পড়া ভিড় সামলাতে কর্তৃপক্ষকে হিমসিম খেতে হয়। এই পাহাড়ের সৌন্দর্য্য উপভোগ করার জন্য সকল সম্প্রদায়ের কাছে এই স্থানটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের এক অপরূপ লীলাভূমি বলে পরিচিত। জানা যায়, সীতাকুণ্ড উপজেলাকে ঘিরে এই পাহাড়টির বেশ কিছু বিশেষত্ব রয়েছে। চন্দ্রনাথ ধামটি পাহাড়ের পাদদেশ থেকে [{(> ১৩০০ ফুট <)}] উচ্চতায় অবস্থিত। মনোরম পরিবেশের মধ্যে এই মন্দিরটি অবস্থিত হওয়ায় ভ্রমণ পিপাসু লোকেরা প্রতিনিয়ত এই পাহাড়ে উঠছে এবং এই পাহাড়ে উঠাকে অনেকে চ্যালেঞ্জ হিসাবে নিয়ে থাকে। এই পাহাড়ে ওঠার অাগে প্রথমে ভৈরব মন্দিরের অপরূপ নিদর্শন চোখে পড়বে। এই মন্দিরের পুকুরে স্নান করাকে পূর্ণ স্নান মনে করেন সবাই। এর একটু সামনে গেলে চোখে পড়বে শংকর মঠ। যার সৌন্দর্য্যে মোহিত হয়েছেন অনেক পর্যটক। এর পর সোজা পিজ ধরা রাস্তা দিয়ে হাঁটলে চোখে পড়বে উপজেলা মহাশ্মশান। এর চারিদিকে চোখে পড়বে অারো অনেক মঠ-মন্দির। এরপর সরু পাহাড়ের মনোরম দৃশ্যের মধ্যে দিয়ে হাঁটলে চোখে পড়বে শম্ভুনাথ বাড়ি। যেখান থেকে চন্দ্রনাথ পাহাড়ে উঠার মূল ধাপ। এই মন্দিরের অপরূপ নিদর্শন দর্শন করার পর ভ্রমণ পিপাসুরা যাত্রা শুরু করে চন্দ্রনাথের দিকে। দুই পাশে মনোরম বিভিন্ন গাছগাছালির দৃশ্য চোখে পড়বে। হাঁঠতে হাঁঠতে ক্লান্ত হয়ে পড়ে যখন শরীর, তখন দূর থেকে চোখে পড়া চন্দ্রনাথ পাহাড় দেখলে সকল ক্লান্তি যেন নিমিষে চলে যায়। অপরূপ সৌন্দর্য্যের পাহাড়টি যেন সবাইকে হাত ছানি দিয়ে ঢাকছে কাছে অাসার জন্য। চন্দ্রনাথের দিকে উঠতে উঠতে চোখে পড়বে হরেক রকমের বাগান। পেঁয়ারা, অামলকি, বেল, কাঁঠাল ইত্যাদি নানা রকমের বাগানের মনোরম দৃশ্য চোখে পড়বে। বিশেষ করে পেঁয়ারা বাগান সবাইকে অাকৃষ্ট করে। হাত বাড়ালে ধরা পড়বে ছোট ছোট সুমিষ্ট পেঁয়ারা ও অামলকি। যখন কাঙ্খিত লক্ষে পৌঁছাতে ক্লান্তির ছাপ পড়বে সারা শরীরে। ওষ্ঠা গত প্রাণ যখন চাইবে একটু পানি ঠিক তখনি চোখে পড়বে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের এক অপরূপ ঝর্ণা। যেন মায়া মূর্তি হয়ে দাঁড়িয়ে অাছে সামনে। যা দেখে সকল ক্লান্তি দূর হয়ে যায় নিমিষে। তবে এই ঝর্ণাটির সৌন্দর্য্য দেখতে হলে বেগ পেতে হবে একটু সবাইকে। কারণ প্রকৃতি বিরোধী কিছু লোক এর অপার সৌন্দর্য্যটা সহ্য করতে পারেনি। তাই এই ঝর্ণাটি এখন প্রায় মরণাপন্ন। তবে পানির ধারা ধরে একটু কষ্ঠ করে উপরে উঠলে ধরা পড়বে এর স্নিগ্ধতা। এই ঝর্ণাটিকে ঘিরে ভ্রমন পিপাসুদের উচ্ছ্বাসের কোন শেষ নেই। ঝর্ণা থেকে উপরের দিকে তাকালে দেখা যাবে বিরুপক্ষ ও চন্দ্রনাথ পাহাড়। কথিত অাছে, অাগে বিরুপক্ষ মন্দির দর্শন করে চন্দ্রনাথে উঠতে হয়। ঝর্ণার বাম দিকে বিরুপক্ষ হয়ে চন্দ্রনাথে উঠতে হয়। তাই ঝর্ণার শীতলতার পরশ নিয়ে নতুন করে যাত্রা শুরু করতে হয় চন্দ্রনাথের দিকে। তবে এই জায়গায় একটু সাবধানে পা চলতে হবে। তা না হলে যে কোন মুহুর্তে ঘটে যেতে পাড়ে বড় ধরণের দূর্ঘটনা। কারণ এখানকার রাস্তা গুলো খুবই বিপজ্জনক। তাছাড়া রাস্তাগুলোর তেমন কোন সংস্কার করা হয় না বলে দিন দিন এটি বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। তাই বলে কিন্তু ভ্রমণকারীরা থেমে নেই। প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ পর্যটক এখানে ভ্রমন করতে অাসছে। বিরুপক্ষের সরু পথ ধরে পৌঁছে যাবে চন্দ্রনাথে। যেখানে উঠার পর বাঁধ ভাঙ্গা অানন্দের শেষ থাকে না। চন্দ্রনাথ পাহাড় থেকে চোখে পড়বে বঙ্গোপসাগরের বিশালতা, উচু নিচু ছোট বড় বিভিন্ন প্রকারের পাহাড়। মনোরম সৌন্দর্য্যের সকল লীলাভূমি যেন এই পাহাড়ে অবস্থিত। সীতাকুণ্ডের এই চন্দ্রনাথ পাহাড়ের অপরূপ সৌন্দর্য্য অবলোকন করার পাশাপাশি ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য অারো অনেক কিছু পরিদর্শনের সুযোগ রয়েছে। একই সময়ে সীতাকুণ্ডের খ্যাতিমান সকল মঠ-মন্দির পরিভ্রমণ করতে পারেন। এখানে ভ্রমণ পিপাসুরা যে সমস্ত মঠ-মন্দির ভ্রমণ করতে পারেন তা হলো - কালিবাড়ি, শনি ঠাকুরের বাড়ী, সত্য নারায়ন ভবন, মোহন্তের অাস্তানা বাড়ি, ব্যাসকুণ্ড, ভৈরব মন্দির, অক্ষয় বট বা বটবৃক্ষ, নারায়ন ছত্র, মহাশ্মশান, হনুমানজির মন্দির, সীতাকুণ্ড, ভবানী মন্দির, স্বয়ম্ভুনাথের বাড়ী, গয়াক্ষেত্র, জগন্নাথ মন্দির, উনকোটি শিবের বাড়ী, বিরুপক্ষ মন্দির, পাতাল পুরি, জ্বালামুখী কালিবাড়ি, বাড়বকুণ্ড ও কুমারিকুণ্ড, লোকনাথ মন্দির, অনুকূল অাশ্রম সহ অারো অনেক মঠ-মন্দির। সীতাকুণ্ডের ঐতিহাসিক তীর্থ স্থানের পটভূমি নিয়ে সনাতন শাস্ত্রে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য মিলে। অনেকে মনে করে সতীদেবীর স্মৃতি বিজড়িত 'সতীকুণ্ড' কালক্রমে নাম বিকৃতির ফলে সীতাকুণ্ড রূপ নিয়েছে।।
★ সংগ্রহ : মঙ্গল প্রদীপ, মাসিক পত্রিকা।
#★# সংগ্রাহক :-> প্রবাল দাশ [ সভাপতি, {S.i.V (Society of Issue Virtue - ধর্ম প্রচারের সংঘ)}, হাটহাজারী,কেন্দ্রীয় শাখা]
রাসযাত্রার ব্যাখ্যাঃ
ব্রজগোপিনী গণ শ্রীকৃষ্ণকে পতি রূপে চেয়েছিলেন। এই কারনে তাঁহারা দেবী কাত্যায়নীর পূজো করেছিলেন।কাত্যায়নী যিনি দুর্গা- তিনি দুইভাবে লীলা কর্ম করেন।
(১) তিনি মোহ মায়া দ্বারা জড় জগতের লোকেদের আছন্ন করেন, এটি বহিরঙ্গা মায়াশক্তি।
(২) দ্বিতীয় হলো তিনি তিনি আবার "কৃষ্ণ ভক্তি" প্রদান করে ভগবানের লীলাশক্তি রূপে নানান লীলার উদঘাটন করেন। ইঁহা ভগবানের অন্তরঙ্গ চিচ্ছক্তি।
(১) তিনি মোহ মায়া দ্বারা জড় জগতের লোকেদের আছন্ন করেন, এটি বহিরঙ্গা মায়াশক্তি।
(২) দ্বিতীয় হলো তিনি তিনি আবার "কৃষ্ণ ভক্তি" প্রদান করে ভগবানের লীলাশক্তি রূপে নানান লীলার উদঘাটন করেন। ইঁহা ভগবানের অন্তরঙ্গ চিচ্ছক্তি।
শ্রীমদ্ভাগবত অনুসারে, ভগবানের এই যোগমায়ার লীলাশক্তির বিবরণ প্রাপ্ত করা যায়। শ্রীভগবান কৃষ্ণের যখন আট বছর বয়স- তখন তিনি রাসলীলা করেছিলেন। গোপিনী গণ ছিলেন সকলেই বিবাহিত। সেযুগে বাল্যবিবাহ প্রচলিত ছিল। কিন্তু তবুও তারা শ্রীকৃষ্ণকেই পুরুষোত্তম জেনে তাঁর সঙ্গ লাভ করার জন্যই কাত্যায়নী ব্রতের অনুষ্ঠান সাধন করেছিলেন। বৈষ্ণব শাস্ত্রে একে "পরকীয়া" বলে উল্লেখিত আছে। এই পরকীয়া বলতে জড় জগতের অবৈধ সম্পর্ক বোঝায় না। আপাতদৃষ্টিতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের এই লীলা জড় জগতের যুবক যুবতীর প্রেমের মতো লাগলেও আদতে তা নয়। মহান আচার্য গণ এঁই পার্থক্য করে গেছেন। ভগবানের বংশী ধ্বনি শ্রবন করে গোপ কন্যারা ছুটে গিয়েছিলেন
অপ্রাকৃত দিব্য প্রেমের আনন্দের স্বাদ আস্বাদের জন্য। শ্রীল কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী মহারাজ এর ব্যাখা করে বলেছেন-আত্মেন্দ্রিয়প্রীতি- বাঞ্ছা-তারে বলি "কাম"। কৃষ্ণন্দ্রিয়প্রীতি- ইচ্ছা ধরে "প্রেম" নাম।।
ইন্দ্রিয় সুখ ভোগের জন্য যে ইচ্ছা তা হল কাম। শ্রীকৃষ্ণের প্রীতির জন্য যে ইচ্ছা তাঁই "দিব্য প্রেম" নামে শাস্ত্রে আখ্যায়িত। অর্থাৎ গোপিনী দের কৃষ্ণ প্রেমে মত্ত হওয়া বা বংশীর ধ্বনিতে উন্মাদের মতো কৃষ্ণ দর্শনে ছুটে যাওয়া সব "কাম" নয়- বরং দিব্য প্রেমের লক্ষণ। এই প্রেম অপ্রাকৃত, কামনা বাসনার বিষ মুক্ত, জড় জগতের কলঙ্ক মুক্ত। তাই শ্রীমদ্ভাগবত ও আচার্য গনের মতে রাসলীলার অনুকরণ করা পাপ ও অধর্ম। শ্রীকৃষ্ণ ষড় ঐশ্বর্য পূর্ণ ভগবান। আমরা সাধারন জীব যদি তাঁর নকল করে ভগবানের লীলার অনুকরণ করতে চাই- তবে নিজেই ধ্বংস হবো। যেমন পৌন্ড্রক বাসুদেব নিজেকে "কৃষ্ণ" ভেবে ধ্বংস হয়েছিল। ভগবানের ভক্তির যে পাঁচ ভাব দেখা যায় {
শান্ত, দাস্য, সখ্য, বাৎসল্য ও মধুর
} ইহাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হোলো মধুরা রতিভাব। রায় রামানন্দের সনে শাস্ত্র শ্রবণ কালে মহাপ্রভু এই "মাধুর্য" ভাবকেই সর্ব উত্তম বলেছিলেন। সখী ভাবে ভাবিত ভক্তের কাছে এখানে ভগবান শ্রীকৃষ্ণই হলেন কান্ত বা প্রিয়। এই ভাবনা নিয়ে যে সাধনা ভজনা তাঁকেই "কৃষ্ণ প্রেম" বলে। এই ভাবে ভাবিত বা ভাবিতা সাধক সাধিকার ভাব হয় সখী ভাবের মতো। লীলা সংবরণের পূর্বে মহাপ্রভুর মধ্যে এমন সখীভাবের উদয় হয়েছিল। শ্রীকৃষ্ণের মথুরা গমনের পর শ্রীরাধারানীর অন্তরে যে কৃষ্ণ অদর্শনের জ্বালা ও কৃষ্ণ প্রাপ্তির আখাঙ্খা উদ্ভাষিত হয় তাঁই বৈষ্ণব দর্শনে "বিরহ" নামে খ্যাত। রাসলীলার মধ্যে প্রচুর তত্ত্ব রস লুকায়িত। বৈষ্ণব, তন্ত্র, যোগ সমস্ত সাধকেরা এর মধ্যে নানান তত্ত্ব খোঁজেন। মূল দর্শন হোলো ভক্তিমার্গ। গোপিকা গণ পড়াশোনা জানতেন না। পঞ্জিকা দেখে পূর্ণিমার দিন ক্ষণ জানতেন না। ক্ষয়িষ্ণু চন্দ্রের ধীরে ধীরে পূর্ণ অবয়ব প্রাপ্তি তারা আকাশে দেখে সেই পূর্ণিমা তিথির প্রতীক্ষা করছিলেন। কখনো কখনো তাঁদের ধৈর্যের বাঁধ টলমল করলে প্রার্থনা করতেন _ "ওহে চন্দ্র তুমিই আজই পূর্ণ রূপে প্রকাশিত হয়ে পূর্ণিমার নির্মল জ্যোৎস্না প্রদান করো।" অবশেষে শরত কালের সেই মধু রজনীতে অসংখ্য তারার মধ্যে গগনে পূর্ণ রূপে শশী আত্মপ্রকাশ করলেন। বৃন্দাবনের বৃক্ষ গুলিতে প্রকৃতি দেবী নানান পুস্পে সাজিয়ে দিলেন। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ নানান পুস্পে বিশেষ ভাবে সুগন্ধ যুক্ত মল্লিকা পুস্পে সুসজ্জিত হলেন। এবং চন্দ্রালোকে প্লাবিত সেই যামিনীতে শ্রীভগবান বংশী বাজালেন। নানাজাতির পুস্পের আঘ্রানে সুবাসিত হাওয়ায় সেই কোটি অমৃত তুচ্ছ বংশীধ্বনি গোপকন্যা দের শুধু কর্ণে নয়- আত্মায় গিয়ে পৌছালো। গোপীরা সেই বংশী ধ্বনি শ্রবন করে তন্ময় হয়ে কৃষ্ণ দর্শনে ছুটলেন। শ্রীমদ্ভাগবতে তাঁদের সেই দিব্য অবস্থা বর্ণিত আছে। কেহ হাতের কাজ ফেলে, কেহ রন্ধন ছেড়ে, কেহ বা কাজ কর্ম ছেড়ে, কেহ বা খাদ্য পরিবেশন ছেড়ে, কেহ স্বামী ও লোকলাজের ভয় তুচ্ছ করে ছুটলেন। কৃষ্ণ দর্শনে উম্মত্তা ব্রজ ললনারা এভাবে কৃষ্ণ দর্শনে ছুটে গেলেন। কারোর যাত্রাপথে মস্তকের ওড়না কাঁটাগাছে আটকে গেলে গোপীনি সেই ওড়না ছাড়ানো তো দূর- টান মেরেই নিয়ে গেলেন, কারোর যাত্রা পথে ফনাধারী ভুজঙ্গ উদিত হলে গোপিনীরা সেই ভুজঙ্গকেই ডিঙ্গিয়ে চলে গেলেন। বস্তুত এই ভাব দিব্য ভক্তির লক্ষণ। কাঁটাগাছ যা ভক্তি মার্গে পথিক দের পেছনে মায়া দ্বারা টানতে চায়, বিষধর ফনী হোলো লোকলাজের ভয় যা ভক্তিমার্গ কে অবরুদ্ধ করতে চায়। প্রকৃত সাধক এসবকে ঠিক সেই ব্রজ বালাদের মতো তুচ্ছ করে অগ্রসর হন।
★ জয় রাধে ★
Monday, November 14, 2016
শ্ৰীল ব্যাসদেব
“ব্যাস'' শব্দের অৰ্থ যিনি বিজ্ঞারিতভাবে ব্যাখ্যা করেন ।
এটি কোনো ব্যক্তিবিশেষের নাম নয় - বেদ বিভাজনকারী ঋষিদের সন্মানসূচক উপাধি। কল্পে কল্পে পরমেশ্বর ভগবান তার শক্ত্যাবেশ অবতারে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাসরপে অবতীৰ্ণ হয়ে বৈদিক জ্ঞান লিপিবদ্ধ করেন। এ কল্পেও তিনি মহৰ্ষি কৃষ্ণদ্বৈপায়ন - ব্যাসরুপে অবতীৰ্ণ হয়েছেন এবং কলিযুগের
অল্পমেধাসম্পন্ন মানুষের কল্যাণের কথা চিন্তা করে বৈদিক শাস্ত্ৰসমূহ গ্ৰন্থাকারে লিপিবদ্ধ করেছেন।
*********************************************************************
আবিৰ্ভাবঃ
ব্যাসদেবের আবিৰ্ভাব প্রসঙ্গে শ্ৰীমদ্ভাগবতে (১/৪ /১৪) বলা হয়েছে''দ্বাপরে সমনুপ্ৰাণ্ডে তৃতীয়ে যুগপৰ্যয়ে। জাতা পরাশরাদযোগী বাসব্যাং কলয়া হৱেঃ''।
“ত্ৰেতা ও দ্বাপরের যুগপৰ্যায়ে বসু - দুহিতা সত্যবতীর গৰ্ভে পরাশর মুনির
পুত্ৰকাপে মহৰ্ষি ব্যাসদেবের জন্ম হয়”।
শৈশবে ব্যাসদেবকে তার কৃষ্ণবৰ্ণের জন্য "কৃষ্ণ' এবং যেহেতু তিনি সতি এবং মতি নদীর সংগমস্থলে একটি দ্বীপে জন্মগ্ৰহণ করেছিলেন, তাই তাকে দ্বৈপায়ন’ বলে ডাকা হতো। ‘বেদ’ বিভাজনের পর তিনি ‘বেদব্যাস’ নামে পরিচিত হন। তার আবিৰ্ভাবের দিনটি ছিল বৈশাখ মাসের দ্বাদশী তিথি। এ দিনটিকে বসন্তদ্বাদশী বলা হয়।
জন্ম বৃত্তান্তঃ
এক সময় পরাশর মুনি সত্যবতী নামে এক মৎস্যগন্ধা কুমারীর নৌকায় চড়ে নদী পার হতে যাচ্ছিলেন। নৌকায় উঠে তিনি বুঝতে পারলেন যে, সে সময়তিথি নক্ষত্ৰসকল অত্যন্ত শুভলক্ষণযুক্ত এবং এ কুমারীর প্রতি তার আশীৰ্বাদে
স্বয়ং ভগবান আবিভুত হতে পারেন। তিনি মৎস্যগন্ধা দেবীকে এ কথা জানান। দেবী বললেন - “হে ঋষিবর, আপনি অত্যন্ত মহান, ত্ৰিকালজ্ঞ,
শাস্ত্ৰবিচারে সুনিপুণ, আমি আপনার আশীৰ্বাদ মাথা পেতে নেব। কিন্তু হে প্ৰভু, আমি যে কুমারী। পরাশর মুনি বললেন - “হে দেবী, আমি তোমায় আশ্বাস দিচ্ছি, আমার দিব্য সম্পৰ্শে তুমি মৎস্যগন্ধা থেকে পদ্মগন্ধা হবে এবং এ সন্তান জন্মদানের পরও তুমি কুমারীই থাকবে। তোমার গৰ্ভজাত সন্তান হবে ভগবান বিষ্ণুর অংশ প্ৰকাশ, ত্ৰিলোক বিখ্যাত, শ্ৰীভগবানের শুদ্ধভক্ত, মহাত্মা এবং সে বেদ বিভাজন করবে”। তখন পরমেশ্বর ভগবানের ইচ্ছায় দৈবপ্ৰভাবে এক কুয়াশাচ্ছন্ন পরিবেশের সৃষ্টি হয় এবং পরাশর মুনির কৃপায় দেবী মৎস্যগন্ধার কোলে মহামুনি কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস - এর আবিৰ্ভাব ঘটে, যিনি মহৰ্ষি ব্যাসদেব নামেও ত্ৰিভুবনখ্যাত। জন্ম হওয়া মাত্ৰই ব্যাসদেব মাতার অনুমতি নিয়ে তপস্যায় রত হন। মাতাকে বলে যান যে, কোনো বিশেষ প্রয়োজনে তাকে স্মরণ করলেই তিনি মাতার কাছে উপস্থিত হবেন।
মহাভারতে ব্যাসদেবঃ
একসময় সত্যবতীর সাথে মহারাজ শান্তনুর বিবাহ হয়। তার গৰ্ভজাত পুত্ৰ চিত্রাঙ্গদ অল্পবয়সে ও বিচােত্ৰবীৰ্য নিঃসন্তান অবস্থায় পরলোক গমন করেন।সত্যবতীর অনুরোধে ব্যাসদেব বিচিত্ৰবীৰ্যের স্ত্ৰী আদিকা ও অম্বালিকার গৰ্ভে যথাক্ৰমে ধৃতরাষ্ট ও পাণ্ডুকে জন্মদান করেন। ব্যাসদেবকে দেখে অম্বিকা ভয়ে চক্ষু নির্মিলিত করেন বলে ধৃতরাষ্ট্ৰ অন্ধ হয়ে জন্মগ্রহণ করেন। আর অম্বালিকা ভয়ে পাণ্ডুবৰ্ণ হয়ে যান বলে পাণ্ডু পাণ্ডুবৰ্ণ হন। সত্যবতী অম্বিকাকে পুনরায় ব্যাসদেবের কাছে যেতে বলেন। কিন্তু অম্বিকা তাতে রাজি হলেন না। তখন সত্যবতী এক দাসীকে ব্যাসদেবের কাছে পাঠিয়ে দেন। এই দাসীর গৰ্ভে বিদুরের জন্ম হয়। মহাভারতের বিভিন্ন ঘটনায় ব্যাসদেব জড়িত ছিলেন। ব্যাসদেবের আশীৰ্বাদে কুরুক্ষেত্ৰ - যুদ্ধকালে সঞ্জয় দিব্যচক্ষু লাভ করেন এবং যুদ্ধক্ষেত্ৰে অনুপস্থিত থেকেও ধৃতরাষ্টের নিকট যুদ্ধের ঘটনাবলী বৰ্ণনা করতে সক্ষম হন। ব্যাসদেব কৌরব ও পাণ্ডবদের পরম হিতাকাতী ছিলেন। নানা
বিপদকালে তিনি তাদের উপদেশ দিয়ে সহায়তা করতেন
।। জয় শ্রীল ব্যাসদেব।।
Subscribe to:
Posts (Atom)















