“ব্যাস'' শব্দের অৰ্থ যিনি বিজ্ঞারিতভাবে ব্যাখ্যা করেন ।
এটি কোনো ব্যক্তিবিশেষের নাম নয় - বেদ বিভাজনকারী ঋষিদের সন্মানসূচক উপাধি। কল্পে কল্পে পরমেশ্বর ভগবান তার শক্ত্যাবেশ অবতারে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাসরপে অবতীৰ্ণ হয়ে বৈদিক জ্ঞান লিপিবদ্ধ করেন। এ কল্পেও তিনি মহৰ্ষি কৃষ্ণদ্বৈপায়ন - ব্যাসরুপে অবতীৰ্ণ হয়েছেন এবং কলিযুগের
অল্পমেধাসম্পন্ন মানুষের কল্যাণের কথা চিন্তা করে বৈদিক শাস্ত্ৰসমূহ গ্ৰন্থাকারে লিপিবদ্ধ করেছেন।
*********************************************************************
আবিৰ্ভাবঃ
ব্যাসদেবের আবিৰ্ভাব প্রসঙ্গে শ্ৰীমদ্ভাগবতে (১/৪ /১৪) বলা হয়েছে''দ্বাপরে সমনুপ্ৰাণ্ডে তৃতীয়ে যুগপৰ্যয়ে। জাতা পরাশরাদযোগী বাসব্যাং কলয়া হৱেঃ''।
“ত্ৰেতা ও দ্বাপরের যুগপৰ্যায়ে বসু - দুহিতা সত্যবতীর গৰ্ভে পরাশর মুনির
পুত্ৰকাপে মহৰ্ষি ব্যাসদেবের জন্ম হয়”।
শৈশবে ব্যাসদেবকে তার কৃষ্ণবৰ্ণের জন্য "কৃষ্ণ' এবং যেহেতু তিনি সতি এবং মতি নদীর সংগমস্থলে একটি দ্বীপে জন্মগ্ৰহণ করেছিলেন, তাই তাকে দ্বৈপায়ন’ বলে ডাকা হতো। ‘বেদ’ বিভাজনের পর তিনি ‘বেদব্যাস’ নামে পরিচিত হন। তার আবিৰ্ভাবের দিনটি ছিল বৈশাখ মাসের দ্বাদশী তিথি। এ দিনটিকে বসন্তদ্বাদশী বলা হয়।
জন্ম বৃত্তান্তঃ
এক সময় পরাশর মুনি সত্যবতী নামে এক মৎস্যগন্ধা কুমারীর নৌকায় চড়ে নদী পার হতে যাচ্ছিলেন। নৌকায় উঠে তিনি বুঝতে পারলেন যে, সে সময়তিথি নক্ষত্ৰসকল অত্যন্ত শুভলক্ষণযুক্ত এবং এ কুমারীর প্রতি তার আশীৰ্বাদে
স্বয়ং ভগবান আবিভুত হতে পারেন। তিনি মৎস্যগন্ধা দেবীকে এ কথা জানান। দেবী বললেন - “হে ঋষিবর, আপনি অত্যন্ত মহান, ত্ৰিকালজ্ঞ,
শাস্ত্ৰবিচারে সুনিপুণ, আমি আপনার আশীৰ্বাদ মাথা পেতে নেব। কিন্তু হে প্ৰভু, আমি যে কুমারী। পরাশর মুনি বললেন - “হে দেবী, আমি তোমায় আশ্বাস দিচ্ছি, আমার দিব্য সম্পৰ্শে তুমি মৎস্যগন্ধা থেকে পদ্মগন্ধা হবে এবং এ সন্তান জন্মদানের পরও তুমি কুমারীই থাকবে। তোমার গৰ্ভজাত সন্তান হবে ভগবান বিষ্ণুর অংশ প্ৰকাশ, ত্ৰিলোক বিখ্যাত, শ্ৰীভগবানের শুদ্ধভক্ত, মহাত্মা এবং সে বেদ বিভাজন করবে”। তখন পরমেশ্বর ভগবানের ইচ্ছায় দৈবপ্ৰভাবে এক কুয়াশাচ্ছন্ন পরিবেশের সৃষ্টি হয় এবং পরাশর মুনির কৃপায় দেবী মৎস্যগন্ধার কোলে মহামুনি কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস - এর আবিৰ্ভাব ঘটে, যিনি মহৰ্ষি ব্যাসদেব নামেও ত্ৰিভুবনখ্যাত। জন্ম হওয়া মাত্ৰই ব্যাসদেব মাতার অনুমতি নিয়ে তপস্যায় রত হন। মাতাকে বলে যান যে, কোনো বিশেষ প্রয়োজনে তাকে স্মরণ করলেই তিনি মাতার কাছে উপস্থিত হবেন।
মহাভারতে ব্যাসদেবঃ
একসময় সত্যবতীর সাথে মহারাজ শান্তনুর বিবাহ হয়। তার গৰ্ভজাত পুত্ৰ চিত্রাঙ্গদ অল্পবয়সে ও বিচােত্ৰবীৰ্য নিঃসন্তান অবস্থায় পরলোক গমন করেন।সত্যবতীর অনুরোধে ব্যাসদেব বিচিত্ৰবীৰ্যের স্ত্ৰী আদিকা ও অম্বালিকার গৰ্ভে যথাক্ৰমে ধৃতরাষ্ট ও পাণ্ডুকে জন্মদান করেন। ব্যাসদেবকে দেখে অম্বিকা ভয়ে চক্ষু নির্মিলিত করেন বলে ধৃতরাষ্ট্ৰ অন্ধ হয়ে জন্মগ্রহণ করেন। আর অম্বালিকা ভয়ে পাণ্ডুবৰ্ণ হয়ে যান বলে পাণ্ডু পাণ্ডুবৰ্ণ হন। সত্যবতী অম্বিকাকে পুনরায় ব্যাসদেবের কাছে যেতে বলেন। কিন্তু অম্বিকা তাতে রাজি হলেন না। তখন সত্যবতী এক দাসীকে ব্যাসদেবের কাছে পাঠিয়ে দেন। এই দাসীর গৰ্ভে বিদুরের জন্ম হয়। মহাভারতের বিভিন্ন ঘটনায় ব্যাসদেব জড়িত ছিলেন। ব্যাসদেবের আশীৰ্বাদে কুরুক্ষেত্ৰ - যুদ্ধকালে সঞ্জয় দিব্যচক্ষু লাভ করেন এবং যুদ্ধক্ষেত্ৰে অনুপস্থিত থেকেও ধৃতরাষ্টের নিকট যুদ্ধের ঘটনাবলী বৰ্ণনা করতে সক্ষম হন। ব্যাসদেব কৌরব ও পাণ্ডবদের পরম হিতাকাতী ছিলেন। নানা
বিপদকালে তিনি তাদের উপদেশ দিয়ে সহায়তা করতেন
।। জয় শ্রীল ব্যাসদেব।।

No comments:
Post a Comment