Saturday, November 12, 2016

শ্রাদ্ধ আদি কি?







বরাহ পুরানে শ্রাদ্ধের ইতিহাস বর্নিত আছে যে, পুত্রের মৃত্যুতে শোকাহত পিতা নিমি নামক এক ঋষি তার পুত্রের আত্মার তৃপ্তি জন্য এবং তার পুত্রের পরলোক যাতে কষ্ট না পায় সে বিষয়ে চিন্তা করে পুত্রের উদ্দেশ্যে উত্তম ফল-মুল ও উপাধেয় ভোজ্য উৎসর্গ করতে মনস্থ করলেন এবং ব্যবস্থাদি করে ফেললেন। তখন ঋষি নিমির নিকটে স্বয়ম্ভু মনু ও দেবর্ষি নারদ এসে উপস্থিত হলেন।স্বয়ম্ভু মনু ও নারদ মুনিকে দেখে নিমি জিজ্ঞেস করলেন যে, ''আমি কি ঋষিদের অনতিপ্রেত কোন কাজ করছি না''?
স্বয়ম্ভু মনু স্বয়ং নারদ সহ সেখানে উপস্থিত এবং বললেন, '' আপনি যা করছেন তা সঙ্গতই হয়েছে''। জগতে এইভাবে মৃত ব্যাক্তির উদ্দেশ্যে শ্রাদ্ধ আদি করার নির্দেশিত হয়।

卐卐卐卐卐卐卐卐卐卐卐卐卐卐卐卐卐卐卐卐
শাস্ত্রানুযায়ী মৃতব্যাক্তিদের আত্মার শান্তির উদ্দেশ্যে এবং তার পারমার্থিক উন্নতির কামনায় দান-ধ্যান ও অতিথিভোজন অনুষ্ঠান। মৃত ব্যক্তির সন্তান কিংবা আত্যীয়-স্বজনরা এই শ্রাদ্ধআদি অনুষ্ঠান করে থাকেন। যেকোন ব্যক্তি নিজের মৃত্যুর পূর্বেও এই শ্রাদ্ধআদি কর্ম করে যেতে পারেন। শ্রাদ্ধ আদি প্রধানত তিন প্রকারের হয়, আদ্যশ্রাদ্ধ, আভু্যদয়িক বা বৃদ্ধিশ্রাদ্ধ ও সপিণ্ডীকরণ।

  আদ্যশ্রাদ্ধঃ
অশৌচান্তে মৃত ব্যক্তির উদ্দেশ্যে ব্যক্তির মৃত্যুদিবসের ১১দিন, ১৫দিন অথবা ৩০দিন পরে এটি অনুষ্ঠিত হয়। মৃত ব্যক্তির পরিবারের লোকজন এই কয়েকদিন ফলমূল, নিরামিষ এবং লবণ ছাড়া আতপ চালের ভাত খায়।শ্রাদ্ধের আগের দিন মৃত ব্যক্তির পুত্ররা মাথার চুল ফেলে দেয় এবং শাস্ত্রীয়
নিয়ম-কানুনসমূহ পালন করে। শ্রাদ্ধের দিন সামর্থ্য অনুযায়ী আত্মীয়-স্বজনসহ
পাড়া-প্রতিবেশীদের নিমন্ত্রণ করে ভোজন করান হয়। শ্রাদ্ধ উপলক্ষে বৈষ্ণব,
ব্রাহ্মণ ও আত্মীয়-স্বজনদের নানারকম দান-ধ্যানও করা হয়।
উপনয়ন, বিবাহ ইত্যাদি শুভকাজের পূর্বে পিতৃপুরুষের আশীর্বাদ কামনায় যে
শ্রাদ্ধ করা হয়, তার নাম আভু্যদয়িক বা বৃদ্ধিশ্রাদ্ধ।
সপিণ্ডীকরণ শ্রাদ্ধ হলো যা ব্যক্তির মৃত্যুর এক বছর পরে করা হয়।


卐卐卐卐卐卐卐卐卐卐卐卐卐卐卐卐卐卐卐卐


  শ্রাদ্ধআদির দিবসঃ
নানামুনির নানামতে আমরা বিভক্ত। অনেক ঋষির মতে, ব্রাহ্মনদের ১০দিন,
ক্ষত্রিয়দের ১২দিন, বৈশ্যদের ১৫দিন এবং শুদ্রের ৩০দিন অশৌচ পালন করতে
হয়। তা অনেক সময় নিজেদের গড়া হয়। যেমন মনে হয় যে, মুনিগন দেহ ও আত্মার পার্থক্য জানেন না। ব্রাহ্মনদের আত্মা আর শুদ্রের আত্মার কি পার্থক্য আছে? শ্রাদ্ধ আদি করার উদ্দেশ্য হল মৃত ব্যাক্তির আত্মার পারমার্থিক উন্নতি।
আমরা জানি শ্রাদ্ধআদি হল এক মহাযজ্ঞ। আর যজ্ঞের অধিপতি হলেন বিষ্ণু।
স্বয়ং ভগবান বিষ্ণু গরুড়পুরানে প্রেত কল্পে গরুড়কে বলেছেন, ''সকল বর্নেরই
জন্ম ও মরনের দশ দিনে শুদ্ধি হতে হবে, কলিতে ইহা শাস্ত্রের নিশ্চিত আদেশ
অর্থাৎ ১০ দিনের দিন দশাহ, দশপিন্ড ও ক্ষৌরক্রিয়া এবং ১১ দিনে দানাদি ও
আদ্য শ্রাদ্ধদিবস নির্ধারিত ''।।
।। হরেকৃষ্ণ ।।

卐卐  সবাইকে share করুন  卐卐

No comments:

Post a Comment