Tuesday, November 1, 2016


★শ্রীশ্রীলক্ষ্ণীদেবীর দেবীমাহাত্ম্য★

#*# লক্ষ্মীদেবীর প্রণামমন্ত্র #*#
''বিশ্বরপস্য ভার্ষাসি পদ্মে পদ্মালয়ে শুভে।
সৰ্ব্বতঃ পাহি মাং দেবি মহালক্ষ্মী নমোহস্ততে''।।

ঋকবেদে শ্ৰী ও ঐশ্বৰ্যের দেবী অৰ্থে লক্ষ্মীদেবীর স্তুতি করা হয়েছে। রামায়ণ অনুসারে লক্ষ্মী পদ্মহস্তা, সমুদ্র হতে উত্থিতা। মহৰ্ষি ভৃগুর ঔরসে ও তার স্ত্ৰী দক্ষকন্যা খ্যাতির গৰ্ভে লক্ষ্মীর জন্ম হয়। ইনি নারায়ণের স্ত্ৰীরুপে অঙ্কশায়িনী হন। দুর্বাসার অভিশাপে ইন্দ্ৰ ত্ৰিভুবন জয় থেকে বঞ্চিত ও শ্রীহীন হলে সর্বসৌভাগ্যের অধিষ্ঠাত্ৰী দেবী লক্ষী সমুদ্ৰ প্ৰবেশ করেন। তারপর সমুদ্ৰ মন্থনের সময়ে অমৃত থেকে লক্ষ্মী উথ্বিত হয়ে দেবগনের কাছে যান। লক্ষ্মীকে লাভ করার জন্য দানবেরা দেবতাদের সাথে কলহে মত্ত হয়ে ওঠে, কিন্তু বিষ্ণু তখন মায়া বিস্তার করে আপন স্ত্ৰী লক্ষীকে গ্ৰহণ করেন। তাই সনাতনধর্মালম্বীদের উচিত একা লক্ষ্মীদেবীকে পুজা না করে ভগবান শ্রীনারায়ন-লক্ষ্ণী একত্রে পুজা আরাধনা করা। “ বাণিজ্যে বসতে লক্ষ্মী ” এই প্ৰবাদ বাক্যটি অতি প্ৰচলিত । কোজাগরী লক্ষ্মীপূজায় কলাগাছের বাকল দিয়ে তৈরি নৌকায় পঞ্চশস্য, স্বৰ্ণ, রোপ্য ইত্যাদি দিয়ে পূৰ্ণ করে লক্ষ্মীর আসনের পাশে রাখা হয়। পরদিন বা অনেকে কালীপূজার পরদিন ঐ নৌকা বাদ্য বাজিয়ে পুকুরে বা নদীতে ভাসিয়ে দিয়ে আসেন। এর অৰ্থ আর কিছুই নয় — আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের আকাঙ্খারই রুপ। পুরাকালে বাস্তবায়িত রুপ এখন লৌকিক আচারে পরিণত হয়েছে। গৃহস্থের বাড়িতে গো সম্পদ নেই — এটা অচিন্ত্যনীয় ব্যাপার ছিল। প্ৰাচীনকালে সে রাজাকেই ধনবান মনে করা হতো যার পশু সম্পদ বেশি থাকত। মহাভারতের অনেক ঘটনা স্মরণযোগ্য। তা হলো কৌরবদের বিরাট রাজার পশুসম্পদ অপহরণের চেষ্টা। তখন রাজাদের যুদ্ধের জন্য ঘোড়া এবং হাতী পুষতে হতো। কৃষিকাজের জন্য এবং দুগ্ধের প্ৰয়োজন মেটাবার কারণে গরু পালিত হতো। প্ৰাচীনকালে গো সম্পদই ছিল ঐশ্বৰ্য। জনক রাজা শ্রেষ্ঠ ঋষিকে পুরস্কৃত করলেন স্বৰ্ণশৃঙ্গমণ্ডিত গাভী দিয়ে। সুতরাং পশুসম্পদও লক্ষ্মী দেবীরই দান। রাজার রাজ্যই সম্পদ, বণিকের বাণিজ্যই সম্পদ। বণিকের বাণিজ্য দেশীয় প্রাকৃতিক সম্পদকে ব্যবহার উপযোগী করে বিদেশে ব্যবসা যেমন করা যেতে পারে তদ্রুপ বিদেশের শিল্পদ্রব্যও দেশে এনে এ দেশের জনগণের চাহিদা মেটাতে পারে। উভয় ক্ষেত্ৰেই ধনসম্পদ বৃদ্ধির কারণ বৰ্তমান। এই ধনসম্পদের অধিষ্ঠাত্ৰী দেবী শ্ৰীশ্ৰীলক্ষ্মী। প্ৰচলিত কথা আছে লক্ষ্মী চঞ্চলা। অৰ্থাৎ তিনি এক স্থানে অধিক সময় থাকেন না। এর কারণ ৪টি।
# (ক) ধনসম্পদ বিশেষ করে অৰ্থ সর্বদাই এক হাত থেকে অন্য হাতে চলে যায় আদান প্ৰদানের মাধ্যমে।
# (খ) লোভ লালসায় প্রভাবিত মানুষের হাতে অৰ্থ সম্পদ সঞ্চিত হয়ে তা অসংযত, ধৰ্মবুদ্ধিহীন চিত্তচাঞ্চল্য সৃষ্টি করে পাপ কাজে প্ৰবৃত্ত করায় এবং তাতে অৰ্থ সম্পদ অন্য হাতে চলে যায়।
# (গ) ধনসম্পদ বৃদ্ধিতে মামলা - মোকদ্দমা, চুরি - ডাকাতি, দাঙ্গা - হাঙ্গামা এমনকি যুদ্ধ - বিগ্ৰহ হয়ে অনৰ্থ ঘটাতে পারে।
# (ঘ) অৰ্থ সম্পদ প্ৰতিনিয়ত হাত বদলের
কারণে যদি তা সুপরিকল্পিত সৎ, সুন্দরভাবে না হয় তাহলে ধনীও দরিদ্রে পরিণত হতে পারে আবার দরিদ্রও ধনী হয়ে যেতে পারে। তবুও সৎ উদ্দেশ্যই লক্ষীকে আরাধনা করতে হয়।
* লক্ষ্মীদেবী সকল সম্পদ, সফলতা, সকল শ্রী ও ঐশ্বৰ্যের অধিষ্ঠাত্ৰী লক্ষ্মীদেবী পেচককে বাহন করে ধন উপাৰ্জনের ক্ষেত্রে সংযতভােব ও আধ্যাত্মিক চেতনাকে জাগ্রত রাখার প্রয়াস করছেন।।

No comments:

Post a Comment