Wednesday, November 2, 2016
# প্রসঙ্গ : শ্রীকৃষ্ণের কালীয় নাগ দমন আমরা ভগবান কৃষ্ণের অপরূপ লীলায় দূর্দান্ত কালীয়-দমন আখ্যান পাই। আসল ঘটনা হল অন্তরের ব্রজভূমির খুব কাছেই হল কালীয়দহ বা কালীদহ, এই হল মনজগতের সবথেকে গভীর ও বিপদ্জনক কামনার নদী, যাতে সাঁতার কাটতে গিয়ে অনেক মুনি- ঋষিরা পর্যন্ত তলিয়ে গিয়েছেন। স্বয়ং ভগবান যদি খেলার সঙ্গী না হন্ কারো পক্ষেই এই নদীতে সাঁতার কাটা সম্ভব নয়। এখানেই স্ব-পরিবারে বাস করে বিষধর কালীয় নাগ বা দূর্দমনীয় ‘কাম’। তাইতে ভগবান স্বয়ং সেই কামকে দমন করেন, তাঁর মাথার উপরে নৃত্য করেন। এই নৃত্য আবার কোন সাধারন নৃত্য নয়। সবকিছু সৃষ্টির আদি উৎস্য হল ‘কাম’ বা ‘ইচ্ছা’। আদি সনাতন ধর্মে, সংস্কৃত ভাষায় এই ‘কাম’ কে বলা হয়েছে ‘ঈক্ষণ’। পরমেশ্বর তাঁর ‘ঈক্ষণ’ বা ইচ্ছাশক্তির দ্বারা এই বৃহৎ ব্রহ্মান্ডের সৃষ্টি করেছেন। এই সৃষ্টি কে বিজ্ঞানের ভাষায় আমরা বলতে পারি ‘বিগ- ব্যাং’ বা মহা-বিস্ফোরণ। সাধারনত বিস্ফোরণ হলে কি হয় না একটা শক্তিপুঞ্জ একটা মূলবিন্দু # বা সেন্টার পয়েন্ট থেকে চারিদিকে ছড়িয়ে পরে। যেমন জলে একটা আঘাৎ হলে তরঙ্গ একটা মূলবিন্দু বা সেন্টার পয়েন্ট থেকে চারিদিকে বৃত্তাকারে ছড়িয়ে পরে। এই তরঙ্গ বা ফ্রিকোয়েন্সী ব্রহ্মান্ডের নাভিকুন্ড থেকে বৃত্তাকারে প্রতিমূহূর্ত্তে ছড়িয়ে পরছে। আগেই বলেছি এই চূরাশি আঙুল পরিমিত মানবদেহই ক্ষূদ্র ব্রহ্মান্ড, চূরাশি ক্রোশ শ্রীবৃন্দাবন। আর তাই আমাদের শরীরের একদম মধ্য-বিন্দু নাভি থেকে তেজ বা পুষ্টি ধনাত্মক স্পন্দন বা পজেটিভ ফ্রিকোয়েন্সী রুপে বৃত্তাকারে ছড়িয়ে পরে সারা শরীরে। এই পজেটিভ ফ্রিকোয়েন্সী কিভাবে ছড়িয়ে পরে না লীলায়িত নৃত্যের ছন্দে। আমরা তো সারা জীবন কত কিছু কামনা করে এসেছি, এটা হলে ভাল হত, ওটা যদি পেতাম জীবন বর্ত্তে যেত এইরকম কতকিছু, কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছি # এই ইচ্ছাগুলির জন্ম হচ্ছে কোথা থেকে ? অন্তরের যে বিন্দু থেকে এই সবরকম কামনার সৃষ্টি হচ্ছে তাঁকেই বলা হচ্ছে ‘কালিদহ’ আর ওই কামনার যে মধ্যমনি সেই তো
স্বয়ং ‘কাম’ বা ‘কালিয়নাগ’। খুব ভালভাবে লক্ষ্য কোরলে দেখতে পাই # আমার অন্তরে লুকিয়ে থেকে কে যেন এইসব গোপন ইচ্ছাগুলিকে মনের মধ্যে অনবরতঃ তৈরী করে চলেছেন, জাগিয়ে চলেছেন। কে তিনি ? অনেক হয়রানি, নাকানি-চোবানি খাওয়ার পর অনেক কষ্টে যখন তাকে জানতে পারলাম, তখন বিস্ময়ে হতবাক হতে হয়, মন বলে ওঠে
“ও হরি! তুমিই যে আমার প্রানের ঠাকুর !” তাই আমার মত যারা ফিকির জেনে ফকিরি করে তারা বলে... “আজব কায়দা জানো গো সাই, আজব কুদরত করো! / সাপ হইয়া কাটো আবার ওঝা হইয়া ঝাড়ো!” আমাদের মনজগতে তিনিই তাঁর বহিরঙ্গ শক্তি দিয়ে কামনা-বাসনার স্ফূরণ ঘটাচ্ছেন আবার যখন তাঁর শরনাপন্ন হচ্ছি, স্বয়ং তিনিই আমাদের এই বহিরঙ্গা শক্তি বা মায়ার হাত থেকে মূক্ত করছেন। তাঁর এই লীলায়িত শক্তি একটি নির্দিষ্ট ছন্দে নৃত্যের তালেতালে স্পম্দিত হয় আর এই হল প্রকৃত কালিয়নাগের মস্তকে ভগবানের অদ্ভূত নৃত্য।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment